বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের নতুন উদ্যোগ হিসেবে ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্টিনা। এই কর্মসূচির আওতায় কয়েক লাখ ডলার বিনিয়োগ বা অনুদানের বিনিময়ে বিদেশি নাগরিকদের আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
প্যারিসে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন আর্জেন্টিনার অর্থমন্ত্রী লুইস কাপুতো। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।
নতুন কর্মসূচির আওতায় আবেদনকারীদের আর্জেন্টিনার সরকারি কোষাগারে ৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিতে হবে অথবা ৮ লাখ ডলারের সরকারি বন্ড কিনতে হবে। এর বিনিময়ে তারা আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তারা বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনও রয়েছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক চুক্তির কারণে আর্জেন্টিনার নাগরিকরা দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান। বিশ্লেষকদের মতে, এই সুবিধাই কর্মসূচিটিকে বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন এই কর্মসূচিকে সেই বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে কর্মসূচিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিতর্কও শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশকে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার নীতি সীমিত বা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, এসব কর্মসূচি কর ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তি, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী কিংবা আইনের নজর এড়াতে চাওয়া বিত্তশালীদের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে।
গোল্ডেন পাসপোর্ট বিষয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঐতিহ্যগতভাবে দ্বিতীয় নাগরিকত্বের প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যায় এমন দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে, যাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। এর মধ্যে রাশিয়া, চীন, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিক উল্লেখযোগ্য।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ধনী নাগরিকও বিকল্প নাগরিকত্ব কর্মসূচির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
আর্জেন্টিনা সরকারকে এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া মাল্টাভিত্তিক এক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী এরিক মেজর মনে করেন, অধিকাংশ আবেদনকারী সরকারি বন্ড কেনার পরিবর্তে সরাসরি অনুদান দেওয়ার পথ বেছে নেবেন।
তার মতে, অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দ্বিতীয় পাসপোর্ট খুঁজছেন।
তবে গোল্ডেন পাসপোর্ট কর্মসূচি নিয়ে অতীতে বিভিন্ন দেশে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। একাধিক দেশে এমন অভিযোগ উঠেছে যে, অর্থপাচারকারী, পলাতক ব্যক্তি কিংবা সন্দেহভাজন অপরাধীরা এসব কর্মসূচির সুযোগ নিয়েছে।
logo-1-1740906910.png)