Logo
×

Follow Us

আফ্রিকা

ম্যান্ডেরা সীমান্তে ইথিওপীয় অভিবাসীদের আতঙ্কের জীবন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬

ম্যান্ডেরা সীমান্তে ইথিওপীয় অভিবাসীদের আতঙ্কের জীবন

কেনিয়া, ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার মিলনস্থল ম্যান্ডেরা ট্রায়াঙ্গেল দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তপারের শ্রম অভিবাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দারিদ্র্য, সংঘাত ও জলবায়ুজনিত সংকটে বাস্তুচ্যুত হাজারো ইথিওপীয় এই অঞ্চলে কাজের সন্ধানে আসছেন। তারা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও নিয়মিত অভিযান, আটক এবং উচ্ছেদের আশঙ্কা তাদের জীবনের নিত্যসঙ্গী।

দক্ষিণ ইথিওপিয়ার ওলাইতা অঞ্চলের মেকলিট ইয়াকব প্রায় চার বছর ধরে ম্যান্ডেরায় গৃহকর্মীর কাজ করছেন। সম্প্রতি ইথিওপীয় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানের সময় স্থানীয় নিয়োগকর্তার সহায়তায় তিনি বহিষ্কার এড়াতে সক্ষম হন। নিজের সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য তিনি দেশে ফিরে যাওয়ার চিন্তা করলেও কর্মসংস্থানের অভাবে ম্যান্ডেরাতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

দীর্ঘদিনের বাসিন্দারাও নিরাপদ নন। ওরোমিয়া অঞ্চলের আব্দু মোহাম্মদ এক দশকের বেশি সময় ধরে ম্যান্ডেরায় বাস করছেন। বাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা ও স্থানীয় সমাজে সম্পৃক্ততা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত পুলিশি অভিযানের মুখোমুখি হন। তার অভিযোগ, কয়েকজনের অপরাধের দায় অনেক সময় পুরো অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো হয়।

বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীরা তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছেন। নেগেলে বোরানা থেকে আসা বিযা টোলোসা স্থানীয়ভাবে গাড়ি মেরামতের ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত কর্মশালাকে ঘিরে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা অভিবাসীদের জন্য সুরক্ষার একটি অতিরিক্ত স্তর তৈরি করে।

ম্যান্ডেরার ব্যবসায়ীদের দাবি, স্থানীয় অর্থনীতি ইথিওপীয় শ্রমিকদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে অনেক হোটেল, দোকান ও সেবা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবার ইথিওপীয় কর্মীদের কাজে ফিরিয়ে আনে।

নারী নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় বাজারে গবাদিপশুর ব্যবসার বড় অংশ এখন নারীদের নিয়ন্ত্রণে। তবে সীমান্তে আনুষ্ঠানিক অভিবাসন ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা প্রায়ই হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের শিকার হন।

স্থানীয় প্রবীণ নেতা ও প্রশাসনের ভাষ্য, ইথিওপীয় অভিবাসীদের অনেকেই স্থানীয়দের সঙ্গে ভাষা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ভাগাভাগি করায় সহজে সমাজে মিশে যান। তবে নিবন্ধনবিহীন অভিবাসন নিরাপত্তা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করছে। সে কারণে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অস্থায়ী কর্মঅনুমতি চালুর দাবি জোরালো হচ্ছে।

এদিকে কেনিয়া সরকার বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ইসিওলো-ম্যান্ডেরা সড়ক করিডোর এবং আধুনিক সীমান্ত স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অনানুষ্ঠানিক সীমান্ত পারাপারের পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত ও বৈধ বাণিজ্য এবং শ্রম চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যান্ডেরার অর্থনীতি ইতোমধ্যেই সীমান্তপারের শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে। তাই টেকসই সমাধানের জন্য অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, বৈধ শ্রমবাজার ব্যবস্থা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।

Logo