আশ্রয় আবেদন স্থগিত করা উচিত ইইউর; পরামর্শ পোল্যান্ডের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:১৮
পোল্যান্ড ২০২৫ সালের মার্চে বেলারুশ সীমান্তে অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণ বন্ধ করে। তখন বলা হয়েছিল, এটি সাময়িক পদক্ষেপ। কারণ রাশিয়া ও বেলারুশ অভিবাসীদের ইউরোপে ঠেলে দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। কিন্তু ১৮ মাস পরও নীতি বহাল রয়েছে। এখন পোল্যান্ড চাইছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নও যেন একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ইইউ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, বেলারুশ অভিবাসনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো মানুষকে তার দেশে টেনে এনে ইউরোপে প্রবেশের সহজ পথ তৈরি করেছেন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, “ইউরোপীয় জরুরি প্রতিক্রিয়া কাঠামো” তৈরি হবে। এতে বিশেষ পরিস্থিতিতে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কিছুটা নমনীয়তা থাকবে। তবে কীভাবে তা কার্যকর হবে, এখনো স্পষ্ট নয়।
পোল্যান্ডের উপ-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মাচেই দুসচিক বলেন, ইউরোপ এখন “পোলিশ সমাধান” নিয়ে আগ্রহী। তিনি উদাহরণ দেন স্পেনের সেউতা সংকটের, যেখানে এক দিনে ৭০ হাজার মানুষ প্রবেশ করেছিল।
কিন্তু মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, আশ্রয় আবেদন স্থগিত করা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হতে পারে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য টিনেকে স্ট্রিক বলেন, যদি এটি স্বাভাবিক নীতি হয়ে যায়, তবে আশ্রয়ের মৌলিক অধিকারই হারিয়ে যাবে। কাউন্সিল অব ইউরোপের মানবাধিকার কমিশনার মাইকেল ও’ফ্লাহার্টি বলেন, এটি সহজেই আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের দিকে যেতে পারে।
সমালোচকরা মনে করিয়ে দেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আশ্রয় অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তখন নাৎসি নিপীড়ন থেকে পালানো মানুষদের আশ্রয় না দেওয়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকেই এই আইন তৈরি হয়।
পোল্যান্ডের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, গর্ভবতী নারী বা নিপীড়নের শিকার হলে আবেদন গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এনজিওগুলো বলছে, বাস্তবে অনেক অসুস্থ মানুষ বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের আবেদনও বাতিল করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইইউর নতুন অভিবাসন চুক্তি মাত্র তিন মাস আগে কার্যকর হয়েছে। তাতেই সীমান্ত সংকটে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পোল্যান্ড বলছে, সেটি যথেষ্ট নয়। নতুন কাঠামো দরকার, যাতে জরুরি অবস্থায় নিয়ম পুরোপুরি স্থগিত করা যায়।
আগামী ১ অক্টোবর ইইউর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পরে ইউরোপীয় কাউন্সিলের শীর্ষ সম্মেলনেও বিষয়টি আলোচনায় আসবে।
সব মিলিয়ে ইউরোপ এখন এক কঠিন দ্বিধায়। একদিকে সীমান্ত সংকট মোকাবিলায় কঠোর নীতি, অন্যদিকে মানবাধিকার রক্ষার বাধ্যবাধকতা। প্রশ্ন উঠছে— ইউরোপ কি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবে, নাকি আশ্রয়প্রার্থীদের মৌলিক অধিকারকে রক্ষা করবে।
logo-1-1740906910.png)