নরওয়ের ছোট্ট দ্বীপ স্টট; পর্যটকদের প্রশান্তির আশ্রয়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬
নরওয়ের আর্কটিক সার্কেলের উত্তরে ছোট্ট দ্বীপ স্টট। শত বছর আগে এই দ্বীপ ছিল জেলেদের আশ্রয়স্থল। ভয়ংকর ঝড়ের রাতে মাছ ধরার নৌকা এখানে এসে নিরাপদ আশ্রয় পেত। আজও দ্বীপটি আশ্রয় দিচ্ছে, তবে ভিন্নভাবে; আধুনিক জীবনের চাপ থেকে মুক্তি খুঁজতে আসা ভ্রমণকারীদের।
স্টটের সবচেয়ে বড় দ্বীপ ইননারস্টটে ছিল একটি বাণিজ্যকেন্দ্র। এখানেই ১৮৯৭ সাল থেকে অ্যান্ডারসেন পরিবারের মালিকানায় থাকা স্টট ব্রিগে হোটেল। এখন হোটেলটির দায়িত্বে আছেন ইভা অ্যান অ্যান্ডারসেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দ্বীপটি আজও মানুষের জন্য আশ্রয় হতে পারে; শান্তি ও প্রশান্তির আশ্রয়।
অ্যান্ডারসেন নিজেই একসময় কর্পোরেট জীবনের চাপ থেকে ক্লান্ত হয়ে দ্বীপে ফিরে আসেন। ২০১১ সালে তিনি নতুনভাবে দ্বীপকে দেখেন। পুরনো বাণিজ্যকেন্দ্রকে হোটেলে রূপ দেন। সেখানে রয়েছে জেলেদের লাল কেবিন, পুরনো গুদামঘর আর হলুদ রঙের বেকারি ভবন। উপরে ছোট্ট জাদুঘরে ঝুলছে পুরনো ছবি ও জাল, যা দ্বীপের অতীতের গল্প বলে।
দ্বীপে এখন মাত্র ২৫ জন স্থায়ী বাসিন্দা। অথচ একসময় এখানে ১২০ জন মানুষ থাকত। মাছ ধরার শিল্পে বড় ট্রলার আসায় ছোট দ্বীপের গুরুত্ব কমে যায়। কিন্তু অ্যান্ডারসেন চান পর্যটনের মাধ্যমে আবার প্রাণ ফিরিয়ে আনতে।
স্টটে ভ্রমণকারীরা সাইকেল চালাতে পারেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জার্মান দুর্গ ঘুরে দেখতে পারেন, কায়াকিং করতে পারেন কিংবা সাগরে ঈগল দেখতে পারেন। শীতে আসে নর্দার্ন লাইটস, গ্রীষ্মে থাকে মধ্যরাতের সূর্য। হোটেলের রুমগুলো সাজানো হয়েছে পুরনো ঐতিহ্য আর আধুনিক আরাম মিলিয়ে।
অ্যান্ডারসেনের লক্ষ্য শুধু পর্যটন নয়, দ্বীপের সমাজকে আবার গড়ে তোলা। তিনি পুরনো মাছ কারখানাকে বিলাসবহুল স্যুটে রূপ দিচ্ছেন। এতে স্থানীয়দের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি হবে। তার আশা, শিল্পী, লেখক আর ভ্রমণকারীরা এখানে আসবেন, দ্বীপে নতুন প্রাণ ফিরবে।
স্টটের প্রকৃতি ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। নীল সমুদ্র, ধূসর গ্রানাইট পাথর আর লাল কেবিনের দৃশ্য যেন ছবির মতো। অ্যান্ডারসেনের মেয়ে বেনেডিক্টে বলেন, “এখানে প্রকৃতিই জিম। পাহাড় আর সমুদ্র দেখলেই মন শান্ত হয়।”
স্টট আজও আশ্রয় দিচ্ছে। একসময় ঝড় থেকে বাঁচতে জেলেরা এখানে আসত, আজ মানুষ আসছে জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে। দ্বীপটি যেন প্রকৃতির কোলে লুকানো এক শান্তির ঠিকানা।
logo-1-1740906910.png)