Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ইউরোপে যুদ্ধের দামামা: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৬

ইউরোপে যুদ্ধের দামামা: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ

ইউরোপে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে সুওয়ালকি গ্যাপের কাছে বড় সামরিক মহড়া চালিয়েছে বেলারুশ। এই করিডোর বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোকে ন্যাটোর সঙ্গে যুক্ত করে। দীর্ঘদিন ধরেই এটি ন্যাটোর দুর্বল বিন্দু হিসেবে পরিচিত। সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এ নিয়ে প্রকাশ করেছে বিশেষ প্রতিবেদন। 

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ রাজনৈতিক নেতাদের গোপন ব্রিফিং দিয়েছেন। তিনি রুশ হাইব্রিড হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া ন্যাটো দেশগুলোর ওপর ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তা দুর্ঘটনা বলে চালাতে পারে।

যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের খাবার ও পানি মজুত করতে বলেছে। প্রতিরক্ষাপ্রধান বলেছেন, দেশটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়ের মুখোমুখি। জার্মানি হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করছে। চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎস বলেছেন, ইউরোপ স্বাধীনতা ও শান্তি রক্ষার নির্ণায়ক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে।

নিরপেক্ষ সুইজারল্যান্ডও নতুন নিরাপত্তা কৌশল নিয়েছে। সশস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পোল্যান্ডে স্থায়ী সেনাঘাঁটি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের সীমানা ছাড়িয়ে যুদ্ধ বিস্তার করতে পারেন— এই আশঙ্কায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, যারা রাশিয়ার হয়ে ইউরোপে হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

ইউরোপ বহু বছর ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা, নাশকতা ও ড্রোন হামলার অভিযোগ করে আসছে। ন্যাটোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো, রাশিয়া প্রথাগত যুদ্ধের সীমা অতিক্রম না করেই এসব অভিযান চালায়। ড্রোন উড়ানো, অবকাঠামোতে নাশকতা, গুপ্তহত্যা সবই ‘গ্রে জোন’ অপারেশন।

পুতিন অস্পষ্টতা ও অস্বীকারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। এতে ন্যাটোর ভেতরে বিভক্তি তৈরি হয়। যদি তিনি সুওয়ালকি গ্যাপে সেনা মোতায়েন করেন, তখন ন্যাটো কী করবে— এ প্রশ্নই এখন বড়। ছোট ভূখণ্ডের জন্য কি ৩২টি দেশ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করবে?

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, যে কোনো আক্রমণের প্রতিক্রিয়া হবে ধ্বংসাত্মক। তবে পুতিন তা বিশ্বাস করেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

আধুনিক যুদ্ধ শুধু অস্ত্র নয়, আরো অনেক কিছু দাবি করে। বৈদ্যুতিক গ্রিড, হাসপাতাল, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক; সবই জরুরি। ইউক্রেন রাশিয়ার হামলার মধ্যেও এসব সচল রেখেছে। ন্যাটো এখন ইউক্রেনের কাছ থেকেও শিখছে।

যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় চাপ সামলাচ্ছে। ফলে সব ফ্রন্টে কার্যকর থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। ট্রাম্প ন্যাটো শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নিয়েছেন, তবে প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ইউরোপ বুঝে গেছে, সোনালি দিন শেষ। যুদ্ধের ঝুঁকি বাস্তব। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনিশ্চিত। তাই ইউরোপ এখন নিজেই বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Logo