Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

সামনে হুতি পিছে ইরান সৌদির সামনে নতুন বিপদ!

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪৬

সামনে হুতি পিছে ইরান  সৌদির সামনে নতুন বিপদ!

সৌদি আরবের সামনে হুথি,পেছনে ইরান—আর এর মাঝেই যুদ্ধে নামার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তান।তাহলে কি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবার সৌদিকে কেন্দ্র করে আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে যাচ্ছে?

রাজধানী রিয়াদ আর খারিজে সম্ভাব্য হামলার সতর্ক বার্তা দিয়েছিলো সৌদির নিরাপত্তা বাহিনী। খারিজ এ বছর মার্চে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ১ বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন। এই দুই শহরেই থাকেন বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিও। ফলে এই দুই শহরে হুতিদের হামলার শংকা ভাবিয়ে তুলেছে সৌদি প্রবাসীদের। কিন্তু শক্তিশালী দেশ সৌদির বিপরীতে হুতিরা দাড়াতে পারবে? 

ইয়েমেনের হুথিরা এখন আর শুধু একটি স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী নয়। এক দশকের যুদ্ধ তাদের এমন একটি সামরিক শক্তিতে পরিণত করেছে,যারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সৌদি ভূখণ্ড ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে এবং বাব আল-মান্দাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সম্প্রতি মোখা বন্দর দখল এবং কৌশলগত পেরিম দ্বীপের দিকে অগ্রসর হওয়ায় তাদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। 

কিন্তু সৌদি আরব এত শক্তিশালী হয়েও হুথিদের থামাতে পারছে না কেন?

কারণ সমস্যাটি শুধু অস্ত্রের নয়—ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতা অত্যন্ত বিভক্ত। সৌদি-সমর্থিত পক্ষগুলোও অভিন্ন রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে না। অন্যদিকে হুথিরা বছরের পর বছর যুদ্ধ করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং ইরানের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়েছে।

হুথিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক কতটা গভীর?

তেহরান তাদের অস্ত্র, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও রাজনৈতিক সহায়তা দিয়েছে—এ নিয়ে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তবে হুথিরা ইরানের সরাসরি ‘পুতুল’—এমন সরল ব্যাখ্যাও পুরোপুরি সঠিক নয়। তারা ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে, কিন্তু ইয়েমেনে নিজেদের ক্ষমতা ও স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাও রাখে।

তাহলে আমিরাতের সঙ্গে হুথিদের যোগসাজশের কথা কেন শোনা যায়?

এখানে সতর্ক থাকা জরুরি। সরাসরি হুথি–ইউএই সামরিক আঁতাতের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। বরং ইয়েমেনে সৌদি ও আমিরাত বহু সময় একই জোটে থেকেও ভিন্ন স্থানীয় পক্ষকে সমর্থন করেছে। ইউএই সমর্থিত দক্ষিণের শক্তিগুলোর সঙ্গে হুথিদের বিরোধও রয়েছে। ফলে এখানে মূল বিষয় ‘গোপন জোট’ নয়—বরং ইয়েমেনের বহুস্তরীয় ক্ষমতার লড়াই।

আর সৌদি–আমিরাত সম্পর্ক?

দুই দেশই ইরানের প্রভাব ঠেকাতে চায়, কিন্তু ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো ও স্থানীয় মিত্রদের প্রশ্নে তাদের স্বার্থ সবসময় এক নয়। এই বিভাজন হুথিদের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ কৌশলকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

এবার পাকিস্তানের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে পাকিস্তান প্রয়োজনে ‘যেকোনো মাত্রায়” প্রতিরক্ষায় পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাকেও এই প্রতিশ্রুতির আওতায় রাখা হয়েছে। ফলে হুথি-সৌদি সংঘাত এখন শুধু ইয়েমেনের সীমান্ত সমস্যা থাকছে না; এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হচ্ছে।

 সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কোথায়?

একদিকে হুথি, অন্যদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, আর তার সঙ্গে ইসরায়েল ও লেবানন ফ্রন্ট—সবগুলো সংকট পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। বাব আল-মান্দাব ও হরমুজ—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই চাপ তৈরি হওয়ায় জ্বালানি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যও ঝুঁকিতে পড়ছে। 

আর ঠিক এই মুহূর্তেই ইরানকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি—তিনি বলেছেন, ইরানকে প্রয়োজনে “খুব কঠোরভাবে” আঘাত করা হবে। 

অর্থাৎ প্রশ্ন এখন শুধু যুদ্ধ থামবে কি না—প্রশ্ন হলো, ইয়েমেন থেকে ইরান পর্যন্ত এই আগুন আর কতটা ছড়িয়ে পড়বে?

আর সেই কারণেই শেষ প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় আকারের হামলার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে পরবর্তী ধাপ কি শুধু আকাশ ও সমুদ্রপথে যুদ্ধ থাকবে, নাকি একসময় মার্কিন সেনার ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ও দেখা যাবে? এখনো উত্তর নিশ্চিত নয়; কিন্তু ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় যুদ্ধের আশঙ্কা যে বাড়িয়ে দিচ্ছে, সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই।

Logo