Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

জার্মানিতে এএফডির উত্থান, অভিবাসীদের মনে শঙ্কা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪

জার্মানিতে এএফডির উত্থান, অভিবাসীদের মনে শঙ্কা

কট্টর ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) উত্থানের কারণে অভিবাসীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। মেকলেনবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ার নির্বাচনে এএফডি সবচেয়ে বড় দল হতে যাচ্ছে বলে জরিপে দেখা যাচ্ছে। এর আগে স্যাক্সনি-আনহাল্টে তারা প্রথম বড় জয় পেয়েছে। দলটি অভিবাসন সীমিত করতে চায় এবং “রিমাইগ্রেশন” বা বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর কথা বলছে।

সিরিয়ার যুদ্ধ থেকে পালিয়ে জার্মানিতে আশ্রয় নেওয়া শাহদ নাজীব এখন নতুন এক দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। এক দশক আগে প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়লেও আজ তিনি ভাবছেন, জার্মানিতে তার আর জায়গা আছে কিনা। রোস্টকের ছোট্ট ফ্ল্যাটে সন্তানদের আঁকা ছবি দেয়ালে ঝুলছে, খেলনা সাজানো কোণে রাখা। অথচ বাইরে বের হলেই তিনি শুনছেন, “এই দেশ জার্মানদের জন্য।”

শাহদ ও তার স্বামী মাহমুদ হামুয়েচ কঠোর পরিশ্রম করে জীবন গড়েছেন। তিনি স্কুলে খাবার পরিবেশন করেন, স্বামী কাজ করেন নরসুন্দরের দোকানে। তাদের দুই সন্তান স্কুলে যায়। তারা কৃতজ্ঞ জার্মান জনগণের প্রতি, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্য ও অপমান তাদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করছে।

রোস্টক ও শভেরিন শহরে অভিবাসী পটভূমির ২০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। বেশিরভাগই বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈষম্য বেড়েছে। কেউ কেউ গালি শুনেছেন, কেউ আবার প্রতিবেশীর কাছ থেকে নোংরা পানি ছিটানোর মতো অপমানের শিকার হয়েছেন।

অভিবাসীরা বলছেন, এই পরিবেশ তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কেউ কেউ ভাবছেন শহর ছেড়ে চলে যাবেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন ও খাদ্যসেবায় কাজ করা অভিবাসীরা বলছেন, বৈষম্য চলতে থাকলে তাদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হবে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, পূর্ব জার্মানির জনসংখ্যা কমছে, জন্মহার নিচে নেমে গেছে। ফলে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসী পটভূমির মানুষ মেকলেনবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ায় কাজ করছেন। জার্মানির শ্রম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৩ লাখের বেশি সিরীয় নাগরিক কাজ করছেন। যদিও বেকারত্বের হার বেশি, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিতর্কে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতা মানুয়েলা শভেসিগ বলেছেন, এএফডি ভয় ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, “যারা এখানে কাজ করছে, কর দিচ্ছে, তারা যেন নিরাপদ বোধ করে।” কিন্তু এএফডি প্রার্থী লেইফ-এরিক হোম বলছেন, অবৈধ অভিবাসনই সমস্যার মূল।

শাহদ নাজীবের সন্তান একদিন জিজ্ঞেস করেছিল, “মা, তিনি কেন তোমাকে গালি দিলেন?” তিনি উত্তর দিতে পারেননি। শুধু বলেছিলেন, হয়তো লোকটি অসুস্থ। কিন্তু তার মনে প্রশ্ন জাগছে- তারা কি সত্যিই এই সমাজের অংশ?

মাহমুদ হামুয়েচ বলেন, “পরিবারই সবার আগে। আমি চাই না আমার সন্তানরা এমন সমাজে বড় হোক, যেখানে তারা প্রত্যাখ্যাত হবে।”

জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এএফডির উত্থান অভিবাসীদের মনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তারা ভাবছেন, নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের দেশ জার্মানি তাদের জন্য কতটা আপন হয়ে থাকবে।

Logo