অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন সংস্কারে বিপাকে পড়বে কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:৫৬
অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার অভিবাসন সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। লক্ষ্য হলো নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন সংখ্যা কমিয়ে আনা। তবে অর্থনীতিবিদ, শিল্পোদ্যক্তা ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পদক্ষেপে দেশের কৃষি ও পর্যটন খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
সরকার ব্যাকপ্যাকার বা ওয়ার্কিং হলিডে ভিসায় সীমা আরোপ করেছে। দ্বিতীয় বছরে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার এবং তৃতীয় বছরে মাত্র ৫ হাজার ব্যাকপ্যাকার থাকতে পারবেন। আগে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৭ হাজার ও ৩১ হাজার। সরকার বলছে, অভিবাসন সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ পদক্ষেপ জরুরি।
কিন্তু কৃষি খাতের নেতারা বলছেন, ব্যাকপ্যাকাররা মৌসুমি শ্রমের বড় অংশ পূরণ করে। ন্যাশনাল ফার্মার্স ফেডারেশন জানিয়েছে, প্রতি সাতজন কৃষি শ্রমিকের একজন ব্যাকপ্যাকার। এ সংখ্যা কমে গেলে ফসল তোলার মৌসুমে শ্রমিক সংকট দেখা দেবে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, শ্রমিক সংকটের কারণে উৎপাদন কমে যাবে। বাজারে খাদ্যের দাম বাড়বে। আঞ্চলিক অর্থনীতি দুর্বল হবে। কৃষকরা ইতোমধ্যেই অভিযোগ করছেন, ভিসা প্রসেসিংয়ে বিলম্বের কারণে তারা শ্রমিক পাচ্ছেন না। কুইন্সল্যান্ড ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার শস্য মৌসুমে শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে।
পর্যটন খাত থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ট্যুরিজম কাউন্সিল বলেছে, ব্যাকপ্যাকাররা শুধু শ্রমিক নয়, তারা পর্যটক হিসেবেও বিলিয়ন ডলার আয় এনে দেন। তারা হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন ব্যবসায় কাজ করে স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখে। অস্ট্রেলিয়ান ট্যুরিজম এক্সপোর্ট কাউন্সিল জানিয়েছে, ব্যাকপ্যাকাররা পর্যটন শিল্পের জন্য নমনীয় কর্মশক্তি সরবরাহ করে। ভিসা সীমিত হলে পর্যটন খাতে বড় ধাক্কা আসবে।
শিল্পোদ্যক্তারা বলছেন, ব্যাকপ্যাকাররা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে পারে। তারা মৌসুমি কাজের জন্য অপরিহার্য। ভিসা সীমিত হলে কৃষি, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে শ্রম সংকট বাড়বে। এতে উৎপাদন কমবে, আয় কমবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য ও সেবার দাম বাড়বে।
logo-1-1740906910.png)