কানাডায় নাগরিকত্ব সনদের ব্যাকলগ ১ লাখ ৩৬ হাজার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪
কানাডায় নাগরিকত্ব সনদ পাওয়ার অপেক্ষা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (IRCC) জানিয়েছে, বর্তমানে নাগরিকত্ব সনদের জন্য জমে থাকা আবেদন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার। এতে আবেদনকারীদের হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
আগে নাগরিকত্ব সনদ পেতে সময় লাগত প্রায় ২৫ মাস। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ মাসের বেশি। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সময় আরো বেশি লাগছে। অনেকের জন্য অপেক্ষার সময় তিন বছরেরও বেশি হয়ে যাচ্ছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিল সি-৩ কার্যকর হয়। এতে নাগরিকত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম প্রজন্মের সীমা তুলে দেওয়া হয়। ফলে বিদেশে জন্ম নেওয়া কানাডিয়ানদের সন্তানরাও নাগরিকত্ব দাবি করতে পারছেন। এ কারণে আবেদন হঠাৎ বেড়ে গেছে।
নতুন নিয়মে ইতোমধ্যে ৬ হাজার ১০০ জন নাগরিকত্ব সনদ পেয়েছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
কানাডিয়ান বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাইল হাইন্ডম্যান বলেছেন, আবেদন সংখ্যা অভূতপূর্ব এবং বিভাগীয় সক্ষমতার বাইরে। তিনি মনে করেন, আগেই প্রস্তুতি নিলে এ সংকট এড়ানো যেত।
আইনজীবী ক্রিস্টিন বেলটেম্পো বলেছেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, মেক্সিকো, বলিভিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও ইতালি থেকেও প্রচুর আবেদন এসেছে। দীর্ঘ অপেক্ষা মানুষের জীবন পরিকল্পনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৩ সালে অন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট নাগরিকত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার প্রথম প্রজন্ম সীমা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। সেই রায়ের ভিত্তিতেই নতুন আইন আনা হয়। ফলে বিদেশে জন্ম নেওয়া অনেক কানাডিয়ান নাগরিকত্বের দাবি করতে পারছেন।
অনেক আবেদনকারী বলছেন, নাগরিকত্ব সনদ ছাড়া তারা কানাডায় নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না। শিক্ষা, চাকরি ও পারিবারিক পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষা তাদের জীবনে বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইআরসিসি জানিয়েছে, জটিল আবেদনগুলোতে অতিরিক্ত নথি ও যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়। ফলে সময় আরো বাড়ছে। তারা বলছে, বর্তমান সময়সীমা আগের হিসাবের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যাবে না, কারণ পদ্ধতি ও তথ্যভাণ্ডার ভিন্ন। তবে জনবল বাড়ানো হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)