দিন দিন কঠিন হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া অভিবাসীদের জীবন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসীরা ক্রমেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। ভিসা পাওয়া, কাজ খোঁজা এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সংগ্রামের পাশাপাশি তারা আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক বিতর্কে তাদেরকে বলির পাঁঠা বানানো হতে পারে।
স্লোভেনিয়া থেকে আসা বারবারা ডারভোডেল ও তার স্বামী ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ায় যান। প্রথমে তারা ওয়ার্কিং হলিডে ভিসায় ছিলেন। পরে মাস্টার্স পড়াশোনা শেষে পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পান।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ইতিহাসবিদ অ্যানালিস ক্লেইডন ১৪ বছরের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর এ বছর নাগরিকত্ব পেয়েছেন। তিনি বলেন, আবেদন করার সময় সাহায্য চাইতে ভয় পেয়েছিলেন, কারণ ভিসা ও থাকার অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তিনি মনে করেন, অস্থায়ী ভিসাধারীরা নিজেদের দেশে থেকেও বহিরাগত মনে করেন।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যালান গ্যামলেন বলেন, অভিবাসন নিয়ে অনেক ভুল ধারণা ছড়ানো হয়েছে। বাড়ির সংকট অভিবাসনের কারণে নয়। অভিবাসীরা চাকরি কেড়ে নিচ্ছেন বা ভাতা খেয়ে বেঁচে আছেন এমন দাবিও মিথ্যা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন ছিল ৩ লাখ ৫ হাজার। আগের বছর ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার। কোভিডের আগে ২০১৮-১৯ সালে ছিল ২ লাখ ৪১ হাজার। সরকার অনুমান করছে, ২০২৫-২৬ সালে এ সংখ্যা কমে ২ লাখ ৯৫ হাজারে দাঁড়াবে।
হোম অ্যাফেয়ার্স বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অস্থায়ী ভিসাধারীর সংখ্যা ২০১২ সালে ছিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার। ২০২৬ সালের জুলাই শেষে তা বেড়ে প্রায় ২৯ লাখে পৌঁছেছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থী, ওয়ার্কিং হলিডে ভিসাধারী, দক্ষ কর্মী ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা রয়েছেন।
রিজিওনাল অস্ট্রেলিয়া ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী লিজ রিচি বলেন, আঞ্চলিক এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য জাতীয় পরিকল্পনা দরকার। ২০২৫ সালে আঞ্চলিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির ৪৬ শতাংশই অভিবাসনের কারণে হয়েছে। সবচেয়ে বড় অংশ ছিল ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মানুষ।
ইরাক থেকে আসা ফারেস আল-হিলি ২০২২ সালে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে দক্ষ অভিবাসী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় যান। তিনি সাউথ অস্ট্রেলিয়ার মারে ব্রিজে বসতি গড়েন। স্থানীয় অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রথমে নিজের পেশায় কাজ পাননি। মাশরুম কারখানায় কাজ করেন, পরে হাইড্রোথেরাপি পুলে চাকরি করেন। ২০২৪ সালে তিনি স্থানীয় একটি স্কুলে ল্যাবরেটরি ম্যানেজার হিসেবে কাজ পান।
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসীদের জীবন দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিতর্কে তারা যেন বলির পাঁঠা না হন, সে আশঙ্কা বাড়ছে। ভিসা জটিলতা, কাজের অভাব ও সামাজিক মানিয়ে নেওয়ার সংগ্রাম তাদের জীবনে বড় চাপ তৈরি করছে।
logo-1-1740906910.png)