রাশিয়া প্রতারণা ও জোরপূর্বক বিদেশিদের যুদ্ধে পাঠাচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, রাশিয়া বিদেশি নাগরিকদের প্রতারণা ও জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করছে। অনেক ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া মানব পাচারের শামিল।
গণমাধ্যম দ্য কিয়েভ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন বলছে, রাশিয়া মূলত দরিদ্র দেশগুলোর মানুষকে টার্গেট করছে। তাদের ভিসা সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে বা মিথ্যা অপরাধের অভিযোগ দেখিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করছে। বিকল্প হিসেবে আটক বা দেশ থেকে বহিষ্কারের ভয় দেখানো হচ্ছে। অনেককে উচ্চ বেতনের প্রতিশ্রুতি ও নাগরিকত্বের লোভ দেখানো হয়, কিন্তু তা পূরণ হয় না।
অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, বিদেশি নিয়োগপ্রাপ্তদের সামান্য প্রশিক্ষণ দিয়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। মাত্র দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণের পর তাদের সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। এতে মানবজীবনের প্রতি চরম অবহেলা প্রকাশ পাচ্ছে।
দুই শ্রীলঙ্কান নাগরিক জানিয়েছেন, তাদের বলা হয়েছিল তারা রান্নার কাজ করবেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে বন্দি হন। একজন বলেছেন, “যুদ্ধের ভয়াবহতা কল্পনাতীত। শুধু ড্রোন দেখা যায়, সৈন্য নয়।”
একজন ব্রাজিলিয়ান আইটি কর্মী জানিয়েছেন, তিনি ভেবেছিলেন প্রযুক্তি খাতে চাকরি করছেন। পরে বুঝতে পারেন তিনি সেনাবাহিনীতে নিয়োগ পেয়েছেন। পালাতে চাইলে তাকে বলা হয়, “চেষ্টা করলে হয় জেলে যাবে, নয়তো মেরে ফেলা হবে।”
রাশিয়া অনেক বিদেশি সেনার পাসপোর্ট নিয়ে নেয়। তাদের চলাফেরায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। ফলে তারা কার্যত বন্দি হয়ে পড়ে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, রাশিয়াকে অবিলম্বে বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগে সব ধরনের প্রতারণা ও জোরপূর্বক প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। সংস্থার মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, “এটি জাতিসংঘের পালার্মো প্রটোকল অনুযায়ী মানব পাচারের সংজ্ঞার সঙ্গে মিলে যায়।”
ইউক্রেন জানিয়েছে, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করছে ২৭ হাজারের বেশি বিদেশি। নভেম্বরের তুলনায় এ সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তারা অন্তত ১৩৫টি দেশ থেকে নিয়োগ পেয়েছে। ইউক্রেনের “আই ওয়ান্ট টু লিভ” প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক বিদেশি আত্মসমর্পণ করছে।
logo-1-1740906910.png)