কলকাতায় পর্যটক ও ক্রেতা সুরক্ষায় অভিযান; প্রায় ১ হাজার হোটেল বন্ধ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০
কলকাতায় ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে পরিচালিত খাদ্য সুরক্ষা অভিযান শেষ হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী এ অভিযানে শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, মিষ্টির দোকান ও বেকারিতে পচা ও বাসি খাবার, ছত্রাক ধরা ছানা-পনির, পচা মাছ-মাংস এবং নিষিদ্ধ কৃত্রিম রং ব্যবহারের মতো নানা অনিয়ম ধরা পড়ে।
খাদ্যবিধি না মানার অভিযোগে কলকাতার ৪০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা পৌর করপোরেশন।
রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও কলকাতা পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা অভিযানে অংশ নেন। সাউথ সিটি মল, স্টার মল ও মেট্রোপলিস মলের ফুড কোর্টেও অভিযান চালানো হয়। স্থগিত হওয়া রেস্তোরাঁগুলোর মধ্যে রয়েছে ডন জিওভানিস, করিমস, মিস্টিমুখ, আল সালান, সিমলা ফুড, ব্রজরাজ, সোফিয়া হোটেল, গঙ্গা, বিরিয়ানি কর্নার, রয়েল বেঙ্গল টাইগার হসপিটালিটি, দাদা বৌদি হোটেল, মেরাকি বেকারি, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক সুইটসসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান।
অভিযানে শহরের ৯১৯টি গেস্ট হাউস বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নিয়ম না মানার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ৪১টি গেস্ট হাউস নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছে। সম্প্রতি কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি পর্যটকের মৃত্যুর পর গেস্ট হাউস ও হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে নতুন করে তৎপর হয় পৌর করপোরেশন।
ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধন হয়েছিল নিউমার্কেট এলাকায়। সপ্তাহ শেষে পৌর করপোরেশনের প্রশাসক স্মিতা পান্ডে জানান, কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, আগের সরকার খাদ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব দেয়নি। বর্তমান সরকার খাদ্যের মান ও নিরাপত্তায় কোনো আপস করবে না। এবার খাবার পানির মানও খতিয়ে দেখা হবে।
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি খাবারের মান নিশ্চিত করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। খাদ্যসামগ্রীতে ভেজাল, নিষিদ্ধ রং বা ভুয়া লেবেল ব্যবহার বরদাশত করা হবে না।
logo-1-1740906910.png)