বিদেশ ভ্রমণে ট্রানজিটে বিনামূল্যে সিটি ট্যুরের সুযোগ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২
আন্তর্জাতিক ভ্রমণে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে মাঝপথে বিমান বদলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এই অপেক্ষার সময়কে বলা হয় ‘লে-ওভার’। সাধারণত এই সময়টা যাত্রীদের কাছে বিরক্তিকর মনে হয়। কারণ বিমানবন্দরের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি থাকে না। তবে কিছু এয়ারলাইন্স তাদের দেশের পর্যটন প্রসারের উদ্দেশ্যে যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করেছে। তারা বিনামূল্যে শহর ভ্রমণের সুযোগ দিচ্ছে, যাকে বলা হয় ‘স্টপওভার প্রোগ্রাম’।
এই প্রোগ্রামে যাত্রীরা বিমানবন্দরে বসে সময় কাটানোর পরিবর্তে শহর ঘুরে দেখতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্স হোটেল, খাবার এবং পরিবহন খরচও বহন করে। এতে একদিকে পর্যটন বাড়ে, অন্যদিকে যাত্রীদের কাছে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
তুরস্ক: টার্কিশ এয়ারলাইন্স ইস্তানবুল হয়ে আন্তর্জাতিক সফরে যাত্রীদের সর্বোচ্চ তিন দিন পর্যন্ত বিনামূল্যে হোটেলে থাকার সুযোগ দেয়। তবে শর্তসাপেক্ষে এই সুবিধা পাওয়া যায়। টিকিটের ধরন ও যাত্রীর দেশভেদে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।
জাপান: জাপান এয়ারলাইন্সের টিকিট বুক করলে টোকিও বা ওসাকায় লে-ওভার থাকলে সর্বোচ্চ ছয় রাত পর্যন্ত শহর ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া যায়। যাত্রীদের জন্য বিশেষ পাস দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে তারা শহর ঘুরতে পারেন। অতিরিক্ত কোনো খরচ দিতে হয় না।
পর্তুগাল: ট্যাপ এয়ার পর্তুগাল আন্তর্জাতিক যাত্রীদের লিসবন বা পোর্তো শহর ভ্রমণের সুযোগ দেয়। সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়া যায়। তবে শর্ত হলো, যাত্রীর লে-ওভার ওই শহরগুলোতে থাকতে হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: এমিরেটস এয়ারলাইন্স ‘দুবাই কানেক্ট’ নামে বিশেষ পরিষেবা চালু করেছে। দুবাইয়ে দীর্ঘ লে-ওভার থাকলে যাত্রীদের বিনামূল্যে হোটেল, খাবার ও পরিবহন সুবিধা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসার ব্যবস্থা থাকে। এতিহাদ এয়ারওয়েজও একই ধরনের সুবিধা দেয় আবুধাবিতে। তারা যাত্রীদের হোটেলে নিয়ে যাওয়া, রাখা এবং বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করে।
স্টপওভার প্রোগ্রাম যাত্রীদের জন্য ভ্রমণকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলছে। এক টিকিটে গন্তব্যের পাশাপাশি অন্য একটি দেশ ঘোরার সুযোগ পাওয়া যায়। এতে পর্যটন বাড়ছে, যাত্রীদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং এয়ারলাইনসগুলোও লাভবান হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)