বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু হলে অতীতের সমস্যাগুলো আবারো দেখা দিতে পারে। মালয়েশিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য চার্লস সান্তিয়াগো সতর্ক করে বলেছেন, নিয়োগ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ফি, ভুয়া সিন্ডিকেট ও জবরদস্তিমূলক শ্রমের মতো সমস্যা বিদ্যমান।
২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দেয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় উচ্চ নিয়োগ ফি, ভুয়া চাকরির সিন্ডিকেট এবং জবরদস্তিমূলক শ্রম। এর আগে বহু কর্মী বৈধ পারমিট নিয়ে মালয়েশিয়ায় পৌঁছালেও চাকরি পাননি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) জানিয়েছিল, ২০২৩ সাল থেকেই এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সম্প্রতি দাবি করেন, মালয়েশিয়া আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ করবে। তবে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানান এ দাবি অস্বীকার করেন। সান্তিয়াগো বলেন, নিয়োগ পুনরায় শুরু হলে অবশ্যই সুরক্ষাব্যবস্থা থাকতে হবে, নইলে পুরনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
সান্তিয়াগোর মতে, নিয়োগ ব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যাগুলো আগে সমাধান করতে হবে। কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং একাধিক মধ্যস্বত্বভোগীর সম্পৃক্ততা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, প্রস্তাবিত কাঠামোয় ২৫টি বাংলাদেশি এজেন্সি নিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করবে, যা আগের সিন্ডিকেট ব্যবস্থার মতোই।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৭৩৩ বাংলাদেশি কর্মীকে প্রতারণার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় আনা হয়েছিল। চাকরি না থাকায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে তাদেরকে এক মিলিয়ন রিঙ্গিতের বেশি বকেয়া মজুরি দেওয়া হয়। মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এটিকে একটি ঐতিহাসিক রায় হিসেবে উল্লেখ করে।
নর্থ-সাউথ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক অ্যাড্রিয়ান পেরেইরা বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মীর চাহিদা থাকলেও নিয়োগ অবশ্যই বৈধ, স্বচ্ছ এবং জবরদস্তিমূলক শ্রমমুক্ত হতে হবে। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও কোটার বণ্টন নিয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই। স্বাধীন অডিট বা ওমবাডসম্যানের অভাব রয়েছে।
পেরেইরা বলেন, কর্মীদের কোনো চাকরির জন্য অর্থ দেওয়া উচিত নয়। আইএলও মানদণ্ড, সাপ্লাই চেইন স্ট্যান্ডার্ড এবং ২০২১ সালের মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী নিয়োগ খরচ নিয়োগকর্তার ওপর বর্তাবে, কর্মীর ওপর নয়। তিনি আরও বলেন, কর্মীদের জন্য প্রস্থানের আগে, আগমনের পর এবং চাকরিতে যোগদানের আগে প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা চুক্তি ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হন।
logo-1-1740906910.png)