Logo
×

Follow Us

আফ্রিকা

রুয়ান্ডা ও উগান্ডায় ইইউর ‘রিটার্ন হাব’ পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬

রুয়ান্ডা ও উগান্ডায় ইইউর ‘রিটার্ন হাব’ পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঁচ দেশ অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি, গ্রিস ও নেদারল্যান্ডস ৪ সেপ্টেম্বর বৈঠকে বসছে অভিবাসীদের ইইউর বাইরে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে। এ বৈঠকের আগে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করেছে, রুয়ান্ডা ও উগান্ডায় প্রস্তাবিত ‘রিটার্ন হাব’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইউরোপীয় অফিসের পরিচালক ইভ গেডি বলেন, “এই রিটার্ন হাবগুলো নকশাগতভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বহন করছে। নির্বিচার আটক, নির্যাতন, জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো; সবকিছুই ঘটতে পারে। এগুলো মানবাধিকারের জন্য নিষ্ঠুর ব্ল্যাক হোল হয়ে উঠতে পারে।” তিনি আরো বলেন, উগান্ডা ও রুয়ান্ডার মতো দেশগুলোতে মানবাধিকার পরিস্থিতি ভয়াবহ, তবুও ইইউ সেখানে অভিবাসীদের পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

উগান্ডায় দীর্ঘদিন ধরে দমননীতি, অবৈধ আটক ও বহিষ্কারের অভিযোগ রয়েছে। দেশটির চরম অ্যান্টি-এলজিবিটিকিউ আইন সমকামী সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং ‘অ্যাগ্রাভেটেড হোমোসেক্সুয়ালিটি’র জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখেছে।

রুয়ান্ডার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মহল বলছে, দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনী কঙ্গোর এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সমর্থন করছে, যারা যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত। যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট ২০২৩ সালে রায় দিয়েছিল, রুয়ান্ডা নিরাপদ তৃতীয় দেশ নয়, কারণ সেখানে রাজনৈতিক স্বাধীনতা সীমিত, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত, নির্বিচার হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

অ্যামনেস্টি বলছে, ইইউর এই ‘মাইগ্রেশন ডিপ্লোমেসি’ মূলত দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা। ইউরোপের দেশগুলো অভিবাসীদের বোঝা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে, অথচ এসব দেশ ইতেমধ্যেই সীমিত সম্পদ নিয়ে শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে।

ইতালি-আলবেনিয়া চুক্তি এবং অন্যান্য দেশে অভিবাসন নীতি আউটসোর্স করার চেষ্টা দেখিয়েছে, এসব উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বর্ণবৈষম্যের শিকার মানুষ। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ‘তাদের ফেরত পাঠাও’ স্লোগান শোনা গেছে, যা অ্যামনেস্টির মতে, নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদী প্রবণতার প্রতিফলন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগান্ডায় একটি কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ২০২৭ সালে চালু হতে পারে এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষকে ধারণ করতে সক্ষম হবে। তবে ইইউর আইন অনুযায়ী, এ ধরনের চুক্তি কেবল সেই দেশগুলোর সঙ্গে করা যাবে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড মানা হয়।

Logo