ব্রাজিল ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ভিসা-মুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য অস্থায়ী ভিসা (VITEM) ইলেকট্রনিকভাবে ইস্যু করার ব্যবস্থা চালু করেছে। নতুন এই ডিজিটাল সিস্টেমে আবেদনকারীদের আর কনস্যুলেটে গিয়ে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে না, বরং অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করে ইমেইলের মাধ্যমে ভিসা পাওয়া যাবে।
ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পরিবর্তন মূলত কনস্যুলার প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য। যারা পর্যটন বা ব্যবসায়িক সফরে ভিসা ছাড়াই ব্রাজিলে যেতে পারেন, কিন্তু পড়াশোনা, চাকরি, পরিবারে যোগদান, বিনিয়োগ বা ডিজিটাল নোম্যাড হিসেবে থাকতে চান, তাদের জন্য অস্থায়ী ভিসা আবশ্যক। এখন থেকে এসব ভিসা অনলাইনে ইস্যু হবে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের অনেক দেশ এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য নিয়ম আলাদা। তারা ২০২৫ সাল থেকে ভিসা-মুক্ত সুবিধা হারিয়েছেন এবং ব্রাজিলে যেতে হলে আলাদা ই-ভিসা নিতে হয়।
আবেদনকারীদের ব্রাজিলের Sistema Consular Integrado (SCI) প্ল্যাটফর্মে ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথি অনলাইনে জমা দিতে হবে। অনুমোদন হলে ভিসা ইলেকট্রনিকভাবে ইস্যু হবে এবং আবেদনকারীর ইমেইলে পাঠানো হবে। ভিসাটি সাধারণত একটি PDF ফাইল আকারে থাকবে, যাতে QR কোড যুক্ত থাকবে।
আগে ভিসা স্টিকার লাগানোর জন্য আবেদনকারীদের পাসপোর্ট কনস্যুলেটে জমা দিতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় এই ধাপ বাদ পড়ছে। ফলে সময় বাঁচবে এবং আবেদনকারীদের জন্য প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কনস্যুলেট চাইলে মূল নথি দেখতে চাইতে পারে বা সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকতে পারে।
ভিসার যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথি আগের মতোই থাকবে। যেমন চাকরির ভিসার ক্ষেত্রে আগে থেকেই ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া দেশে পৌঁছানোর পর ফেডারেল পুলিশের কাছে নিবন্ধন করার নিয়মও বহাল থাকবে।
যদিও ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা, অনেক কনস্যুলেট এখনো পুরোনো নির্দেশনা অনুসারে আবেদন নিচ্ছে। নিউ ইয়র্ক, মন্ট্রিয়ল, প্যারিস, লন্ডন, বার্সেলোনা, জেনেভা ও পোর্তোর কনস্যুলেটগুলোতে এখনো পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়েবসাইটগুলো হালনাগাদ হতে কিছুটা সময় লাগবে।
logo-1-1740906910.png)