চীনে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি দেশটির জাতীয় ইমিগ্রেশন প্রশাসন ভিসা-মুক্ত নীতির আওতা আরো বিস্তৃত করেছে। ২০ আগস্ট থেকে কিরগিজস্তান ও ভিয়েতনামের নাগরিকরা ২৪০ ঘণ্টার ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে এই সুবিধাভোগী দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭। একই সঙ্গে হাইনান প্রদেশে ৩০ দিনের ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার এখন ৬১ দেশের নাগরিকদের জন্য কার্যকর হয়েছে।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে চীনে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২.৯১ মিলিয়ন, যা আগের বছরের তুলনায় ২০.৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ১৭.৮ মিলিয়ন মানুষ ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করেছেন, যা মোট প্রবেশকারীর ৭৭.৭ শতাংশ। ভিসা-মুক্ত প্রবেশের হার বেড়েছে ৩০.৬ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, মঙ্গোলিয়া ও অস্ট্রেলিয়া; এই ১০টি দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছে, যা মোট প্রবেশকারীর ৬২ শতাংশ।
চীনের ভিসা-মুক্ত নীতি হঠাৎ নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে ধাপে ধাপে বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও মালয়েশিয়ার নাগরিকদের জন্য একতরফা ভিসা-মুক্ত প্রবেশ চালু হয়। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আরো দেশ যুক্ত হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্য ও কানাডা যুক্ত হওয়ায় তালিকায় দেশ সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০।
২৪০ ঘণ্টার ট্রানজিট করিডর এখন ৬৫টি প্রবেশপথে কার্যকর, যার মধ্যে বেইজিং, সাংহাই ও গুয়াংজু রয়েছে। সাধারণ পাসপোর্টধারী নাগরিকরা নিশ্চিত তৃতীয় দেশে যাওয়ার টিকিট থাকলে সর্বোচ্চ ১০ দিন চীনে থাকতে পারবেন। এ সময় পর্যটন, ব্যবসা ও পারিবারিক ভ্রমণ অনুমোদিত হলেও কাজ, পড়াশোনা বা সাংবাদিকতার জন্য আলাদা ভিসা প্রয়োজন।
চীনে ভ্রমণের বাস্তব অভিজ্ঞতা এখন অনেক সহজ হয়েছে। উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক ৪০ হাজার কিলোমিটার ছাড়িয়েছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড়। বিদেশি পাসপোর্ট দিয়ে টিকিট বুকিং এখন সহজ এবং ইংরেজি সহায়তা বেড়েছে। সবচেয়ে বড় বাধা ছিল ক্যাশলেস পেমেন্ট, যা এখন দূর হয়েছে। আলিপে ও উইচ্যাট পে আন্তর্জাতিক ভিসা ও মাস্টারকার্ড গ্রহণ করছে। বিদেশি মোবাইল নম্বর দিয়ে ডিডি ব্যবহার করা যাচ্ছে এবং ই-সিম প্যাকেজের মাধ্যমে অবতরণের পরপরই ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
তবে অনেক বিদেশি পর্যটক এখনো পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে লেখা গাইডগুলোতে ভ্রমণকে কঠিন বলা হয়েছিল। ফলে অনেকেই জানেন না যে এখন ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে বা বিদেশি কার্ড দিয়ে সহজে পেমেন্ট করা যায়। এই তথ্য ঘাটতি পর্যটন শিল্পের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চীন বর্তমানে নীতিনির্ভরভাবে পর্যটন খাত খুলে দিচ্ছে। এয়ারলাইন, হোটেল, ট্যুর অপারেটর ও বীমা কোম্পানিগুলো যদি নতুন নিয়ম অনুযায়ী তাদের নির্দেশনা হালনাগাদ করে, তবে তারা বাড়তি চাহিদা ধরতে পারবে। অন্যদিকে যারা পুরোনো ধারণায় আটকে আছে, তারা ব্যবসায়িক সুযোগ হারাচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)