আধুনিক দাসত্ব ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী এক অভূতপূর্ব অভিযান চালানো হয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশে একযোগে অভিযান চালিয়ে ১,০২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে শত শত ভুক্তভোগী, যারা জোরপূর্বক শ্রম, যৌন শোষণ ও অবৈধ পাচারের শিকার ছিলেন।
মানব পাচার এখন বৈশ্বিক সংকট। নির্মাণ শিল্প, কৃষি, যৌন ব্যবসা, নেইল বার, কার ওয়াশ থেকে শুরু করে ক্যানাবিস ফার্ম পর্যন্ত নানা জায়গায় পাচার হওয়া মানুষদের শোষণ করা হচ্ছে। শিশুদেরও এসব কাজে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেককে পূর্ব ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে পাচার করে আনা হয়। আবার স্থানীয়ভাবে অর্থনৈতিক সংকটে পড়া মানুষও প্রতারণার শিকার হয়ে দাসত্বে আবদ্ধ হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে এবং ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া অনেকের পরিচয়পত্র ও আয় পাচারকারীরা কেড়ে নিয়েছিল। তাদেরকে ভয় দেখানো ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তর (UNODC) জানিয়েছে, মানব পাচার মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। অনেক দেশ এখনো কার্যকর আইন বা রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে পিছিয়ে আছে। UNODC-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় দুইটির মধ্যে একটি দেশ মানব পাচারের কোনো মামলায় দোষী সাব্যস্ত করতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো সবচেয়ে জরুরি। সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের ঝুঁকি কমানো, পাচারকারীদের ঝুঁকি বাড়ানো এবং আধুনিক দাসত্বের চাহিদা কমানোই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। এজন্য সরকার, বেসরকারি খাত ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থা (NRM) ভুক্তভোগীদের শনাক্ত ও সহায়তা দিতে কাজ করছে। উদ্ধার হওয়া মানুষদের চিকিৎসা, আশ্রয় ও আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কাজ করছে।
logo-1-1740906910.png)