সম্প্রতি আলোচিত ওয়েব সিরিজ মুসাফির ক্যাফে দর্শকদের শুধু গল্পেই নয়, শুটিং লোকেশন নিয়েও আগ্রহী করে তুলেছে। সিরিজে চন্দর-সুধার প্রেমকাহিনি শুরু হয় এক হ্রদের ধারে ছিমছাম রেস্তোরাঁয়। সেই জায়গাটি বাস্তবে রয়েছে মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে, ভোজ তালের ধারে।
সিরিজে দেখা যায় মসূরীর ঝরীপানী ক্যাস্লকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘মুসাফির ক্যাফে’। তবে প্রেমকাহিনির সূচনা হয়েছে ভোপালের আপার লেক বা ভোজ তালের ধারে অবস্থিত এমপিটি উইন্ড অ্যান্ড ওয়েভস রেস্তোরাঁয়। সাদা রেলিং দেওয়া উন্মুক্ত এই রেস্তোরাঁ থেকে পুরো হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এখানেই চন্দর-সুধার প্রথম দেখা হয়।
ভোপালের অন্যতম আকর্ষণ এই কৃত্রিম হ্রদটি পারমার বংশীয় রাজা ভোজ নির্মাণ করেছিলেন। স্থানীয়রা একে ‘বড় তালাব’ বলেন। হ্রদের এক প্রান্তে রয়েছে রাজা ভোজের মূর্তি, মাঝখানে ছোট্ট দ্বীপ। তীরে কমলা পার্কে বসে সূর্যাস্ত দেখা যায়, নৌবিহার ও জলক্রীড়ারও সুযোগ আছে। ভোপাল বিমানবন্দর থেকে দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার।
ভোজ তালের পাশেই এমপিটি উইন্ড অ্যান্ড ওয়েভস হোটেল। এখানে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে, ঘর ভাড়া শুরু হয় প্রায় ৪-৫ হাজার টাকা থেকে। চাইলে শুধু খাওয়ার জন্যও যেতে পারেন। অতীতে ‘আরক্ষণ’ ও ‘রাজনীতি’-র মতো হিন্দি ছবির শুটিংও হয়েছিল এখানে।
ভ্রমণকারীদের জন্য ভোপালে রয়েছে আরো অনেক দর্শনীয় স্থান।
- ট্রাইবাল মিউজিয়াম: আদিবাসী জীবনযাত্রার নিদর্শন, শিল্পকলা ও সংগীত প্রদর্শিত হয়। সপ্তাহান্তে লোকনৃত্য ও সংগীতের আয়োজন থাকে।
- স্টেট মিউজিয়াম: প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ভাস্কর্য, প্রাচীন মুদ্রা ও জীবাশ্ম সংরক্ষিত।
- বন বিহার জাতীয় উদ্যান: বাঘ, ভালুকসহ নানা বন্যপ্রাণী দেখা যায়। হাঁটা বা ব্যাটারি চালিত গাড়িতে ঘোরা যায়।
- তাজ-উল-মসজিদ: এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মসজিদ, বিশাল মিনার ও মার্বেলের গম্বুজ রয়েছে।
- গওহর মহল ও মোতি মসজিদ: ঐতিহাসিক স্থাপনা, ভোপালের অতীতের নিদর্শন।
- ভীমবেটকা: ভোপাল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে প্রস্তরযুগের গুহাচিত্র সমৃদ্ধ স্থান, যা ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।
মুসাফির ক্যাফে সিরিজের জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে ভোপালের ভোজ তাল ও এমপিটি উইন্ড অ্যান্ড ওয়েভস রেস্তোরাঁ নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। প্রেমকাহিনির সূচনা যেখানে, সেই স্থান এখন পর্যটকদের জন্যও স্মৃতিময় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠছে।
logo-1-1740906910.png)