দক্ষিণ আফ্রিকা অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। সম্প্রতি আদালত দুইজন অনিবন্ধিত বিদেশিকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। তাদের অপরাধ ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা। পাশাপাশি অবৈধভাবে দেশে অবস্থান করার দায়ে আরো তিন মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ জানিয়েছে, সাজা শেষে ওই বিদেশিদের হোম অ্যাফেয়ার্স বিভাগে হস্তান্তর করা হবে। এরপর তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সাজা শেষ হওয়ার পরই তাদের বহিষ্কার কার্যকর হবে।
অন্য এক অভিযানে চারজন বিদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা অবৈধ পোশাক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে দুইজন ইথিওপিয়ান, একজন সেনেগালের নাগরিক এবং আরেকজন ইথিওপিয়ান পুলিশকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে আলাদা মামলা চলছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল পণ্য ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
২০ আগস্ট পরিচালিত ‘অপারেশন বাসাদি’তে ১৩ জন অনিবন্ধিত বিদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এন৪ সড়কে নকোমাজি টোল প্লাজার কাছে পরিচালিত এই অভিযানে নকল ও অবৈধ পণ্যও জব্দ করা হয়। এসবের মধ্যে ছিল প্রসাধনী, মোবাইল ফোনের আনুষঙ্গিক সামগ্রী, ঘড়ি, খেলনা ও সিগারেট।
দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই মাসে তারা ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে ১৫৯ জন ছিলেন অনিবন্ধিত বিদেশি। গৌতেং প্রদেশে পরিচালিত ‘অপারেশন শানেলা’তে এসব গ্রেপ্তার হয়।
অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ নামের একটি সংগঠন। তারা জুন মাসে দেশব্যাপী বিক্ষোভ করে বিদেশিদের দেশ ছাড়ার দাবি জানিয়েছিল। এবার তারা নতুন সময়সীমা দিয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব অনিবন্ধিত বিদেশিকে দেশ ছাড়তে হবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা প্রতি বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে, যতদিন না সরকার অবৈধ অভিবাসন সমস্যার সমাধান করে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ শুরু হয়েছে। কারাদণ্ড, বহিষ্কার ও ব্যাপক অভিযান দেশটির অভিবাসন সংকটকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের চাপ সরকারকে আরো কঠিন অবস্থানে দাঁড় করাচ্ছে। আগামী মাসগুলোতে এই সংকট আরো তীব্র হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)