Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

অমিতাভ বেহারের কলাম

মানবিকতা ধসে পড়েনি, বিক্রি হচ্ছে মাত্র

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৭

মানবিকতা ধসে পড়েনি, বিক্রি হচ্ছে মাত্র

মানবিকতার বর্তমান অবস্থা কোথায় দাঁড়িয়ে? একসময় যুদ্ধের মধ্যেও কিছু সীমারেখা ছিল, যা কেউ অতিক্রম করত না। ক্ষুধার্ত শিশুকে খাবার দেওয়া বা আহত মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া ছিল মৌলিক অধিকার। কিন্তু আজ সেই নীতির ভিত্তি নড়ে গেছে। বিশ্ব মানবিকতা দিবসে আমাদের ভাবতে হবে এর অর্থ।

অনেক সরকার আর নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করছে না। কেউ সুবিধামতো আইন মানছে, কেউ আবার নিজেদের স্বার্থে তা উপেক্ষা করছে। কেউ কেউ নীরব থেকেও অন্যায়ের অংশীদার হয়ে উঠছে। ফলে মানবিকতার জায়গায় এসেছে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।

আজ মানবিক সুরক্ষা আর সার্বজনীন দায়িত্ব নয় বরং এক ধরনের বিনিয়োগ, যেখানে রাজনৈতিক লাভের হিসাব মেলে। এর ফল ভয়াবহ। গত তিন বছরে অন্তত এক হাজার মানবিক কর্মী নিহত হয়েছেন, যা আগের তিন বছরের তুলনায় তিনগুণ বেশি। ২০২৫ সালে ৩৫০ জন নিহত, ৩২২ জন আহত, ২৩৫ জন অপহৃত এবং ২৮০ জন আটক হন।

অক্সফাম জানিয়েছে, গত আট বছরে তাদের পাঁচজন সহকর্মী নিহত হয়েছেন এবং ১ হাজার ২০০টিরও বেশি নিরাপত্তা ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। অনেক সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে সেসব অঞ্চলে, যেখানে যুদ্ধরত পক্ষগুলো একই সরকারের অর্থায়নে মানবিক সহায়তা পাচ্ছে।

মানবিক কাজের আরেক বড় বাধা হলো অযৌক্তিক সরকারি বিধিনিষেধ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইসরায়েল অক্সফামসহ ৩৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে জানায়, গাজা ও পশ্চিম তীরে কাজ চালিয়ে যেতে হলে কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। সংস্থাগুলো তা প্রত্যাখ্যান করলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়।

এছাড়া অর্থায়নও কমছে। ২০২৬ সালে জি৭ দেশগুলো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সহায়তা কাটছাঁট করেছে, ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম। অথচ কঙ্গোতে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ছে, সুদানে মানুষ অনাহারে মরছে।

এই অর্থনৈতিক সংকোচন, জাতিসংঘে ভেটো, আন্তর্জাতিক আদালতের রায় অমান্য করা, জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর অর্থ বন্ধ করা; সবই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। মানবিক সহায়তাকে সামরিকীকরণ বা পক্ষপাতমূলক বণ্টন মানবিকতার মূল চেতনাকে ধ্বংস করছে।

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বলছে, নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না; হাসপাতাল, স্কুল, আশ্রয়কেন্দ্র ও মানবিক কর্মীদের ওপর হামলা নিষিদ্ধ। প্রতিটি হামলার স্বাধীন তদন্ত ও অপরাধ প্রমাণিত হলে বিচার হওয়া উচিত।

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন হবে মানবিকতার পরীক্ষার ক্ষেত্র। যারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মানবিক নীতির প্রতি শ্রদ্ধা ফিরিয়ে আনতে হবে।

বিশ্ব মানবিকতা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যারা অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই মানবতার প্রকৃত অর্থ।

(অমিতাভ বেহার অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক। ১৯ আগস্ট তার এই কলামটি প্রকাশিত হয় আলজাজিরার মতামত বিভাগে। মাইগ্রেশন কনসার্ন কলামটির অনুবাদ করেছে মাত্র।)

Logo