তিউনিসিয়ার উপকূলে অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর অন্তত ১৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ২১ আগস্ট রাতে জারজিস উপকূল থেকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌকাটি ডুবে যায়। স্থানীয় গণমাধ্যমকে জাতীয় গার্ডের মুখপাত্র হুসেম এদ্দিন জেবাবলি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
জাতীয় গার্ড এখনো নিশ্চিত করেনি কতজন মারা গেছেন। তবে তিউনিসিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের সভাপতি মোস্তাফা আবদেলকেবির জানিয়েছেন, চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো নিখোঁজ যাত্রীদের কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিউনিসিয়ার উপকূল ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপ থেকে মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার দূরে। এ কারণে দেশটি ইউরোপে পৌঁছাতে চাওয়া অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান প্রস্থান পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিবাসন রুট।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে এই রুটে অভিবাসীদের মৃত্যু দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত অন্তত ৯১৪ জন অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।
২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তিউনিসিয়া ২৫৫ মিলিয়ন ইউরোর একটি চুক্তি করে। এর প্রায় অর্ধেক অর্থ অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে ব্যয় করার কথা ছিল। ইতালির ডানপন্থি সরকার এ চুক্তিকে জোরালোভাবে সমর্থন করে। এর লক্ষ্য ছিল তিউনিসিয়ার সক্ষমতা বাড়ানো, যাতে দেশটির উপকূল থেকে নৌকা ছাড়তে না পারে।
বাংলাদেশ থেকেও বিপুল সংখ্যক তরুণ এই রুটে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে লিবিয়া হয়ে গ্রিসে পৌঁছেছেন ৩ হাজার ৬০৮ জন বাংলাদেশি এবং ইতালিতে পৌঁছেছেন আরো ৪ হাজার ২৪৯ জন। ২০০৯ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন ভূমধ্যসাগরীয় রুটে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব, সামাজিক চাপ ও বৈধ অভিবাসনের সীমিত সুযোগ তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে। পরিবার ও সমাজে সফলতার প্রতীক হয়ে ওঠায় অভিবাসন এখন অনেকের কাছে মর্যাদার বিষয়। ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও তারা এই বিপজ্জনক যাত্রায় পা বাড়াচ্ছেন।
logo-1-1740906910.png)