জার্মানি ইউরোপীয় কমিশনকে জানিয়েছে যে তারা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরো ছয় মাস বাড়াতে চায়। অনুমোদন পেলে এই নিয়ন্ত্রণ ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে কমিশন এ বিষয়ে দ্বিধা প্রকাশ করেছে।
অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত আবেদন জমা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ড দৈনিক বিল্ডকে বলেন, ইউরোপের বাইরের সীমান্তে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি দেখাচ্ছে যে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এখনো প্রয়োজন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের শেষে স্পেনের সেউটা অঞ্চলে হঠাৎ ৮০ হাজার অনিয়মিত অভিবাসীর আগমন।
ডোব্রিন্ড বলেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শুধু নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং জার্মানির অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের সংকেতও। তার দাবি, এই পদক্ষেপে ইউরোপজুড়ে সক্রিয় পাচারকারী চক্র বড় ধাক্কা খেয়েছে।
শেনজেন চুক্তি অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোতে মানুষ ও পণ্যের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা হয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করা যায়। কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনেক দেশ সীমান্ত বন্ধ করেছিল।
জার্মানি সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে অতিরিক্ত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করেছে। এর আগে তিনবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কমিশন বারবার বলেছে, এটি শেনজেনের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জার্মানি ৯টি দেশের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে— ডেনমার্ক, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস।
জার্মানি ছাড়াও নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ইতালি, নরওয়ে, স্লোভেনিয়া ও সুইডেন সময় সময় অভ্যন্তরীণ সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ চালু করেছে।
ইউরোপীয় কমিশন জুনে বলেছিল, জার্মানি যথেষ্ট তথ্য দেয়নি কেন সব সীমান্তে একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ চালু রাখা হচ্ছে। কমিশন বলেছে, হুমকির মাত্রা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সীমান্তে ভিন্ন মাত্রার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকার নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনের ভোগান্তি নিয়ে অভিযোগ করেছেন। কমিশন বলেছে, জার্মানির উচিত বিকল্প সমাধান খোঁজা এবং ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া।
logo-1-1740906910.png)