উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয় রাজ্য তার পাহাড়ি সৌন্দর্য, শীতল আবহাওয়া ও বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত। রাজধানী শিলংকে বলা হয় ‘প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দেড় হাজার মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই শহর ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য গন্তব্য। বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল স্থান চেরাপুঞ্জিও এখানেই অবস্থিত।
মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময় মেঘালয় ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। বিশেষ করে মার্চ-এপ্রিল ও সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে আবহাওয়া মনোরম থাকে, ঝরনা ও পাহাড়ি দৃশ্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
শিলং শহরের কাছেই রয়েছে শিলং পিক ও সোহপেতবিনেং পিক। শিলং পিক থেকে পুরো শহরকে পাখির চোখে দেখা যায়। সোহপেতবিনেং পিক স্থানীয় খাসিয়া ও জৈন্তিয়া জনগোষ্ঠীর কাছে তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত।
শিলং শহরের মধ্যেই রয়েছে শতবর্ষী ওয়ার্ডস লেক, যা ফুল ও পাইন গাছে ঘেরা। শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে উমিয়াম লেক বা বড়পানি লেক নৌকাবিহার ও জলক্রীড়ার জন্য বিখ্যাত।
মেঘালয়ের ঝরনাগুলো ভ্রমণকারীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। সুইট ফলস, রেংথিয়াম ফলস, বিশপ ও বিডেন ফলস, এলিফ্যান্ট ফলস; সবগুলোই মনোমুগ্ধকর। সময় কম থাকলে এলিফ্যান্ট ফলস অবশ্যই দেখা উচিত।
শিলং শহরের লেডি হায়দারী পার্কে রয়েছে নানা প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ ও বন্যপ্রাণী। এছাড়া চেরাপুঞ্জির থাংখারাং পার্ক ও ইকো পার্ক, জৈন্তিয়া হিলসের লালং পার্কও দর্শনীয়।
শিলং গলফ কোর্স ভারতের অন্যতম প্রাচীন গলফ মাঠ। পাইন ও রডোডেনড্রন গাছে ঘেরা এই মাঠকে বলা হয় ‘গ্লেনঈগল অব দ্য ইস্ট’।
চেরাপুঞ্জি ভ্রমণ মেঘালয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। বছরে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের জন্য এটি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত। উপত্যকা, নদী ও পাহাড়ি দৃশ্য চেরাপুঞ্জিকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে। চাইলে একদিনে ঘুরে আসা যায়, আবার একরাত থেকে স্থানীয় রিসোর্টে আতিথেয়তা উপভোগ করা যায়।
মেঘালয়ের গুহাগুলোও পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। মৌসুমাই কেভ, ক্রেম মৌমলুহ, ক্রেম ডেম, জৈন্তিয়া হিলসের ক্রেম কটসাটি ও গারো হিলসের সিজু দোবাকল ভ্রমণকারীদের জন্য রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য মেঘালয় এক স্বর্গরাজ্য। পাহাড়, ঝরনা, লেক, গুহা ও পার্ক মিলিয়ে এই রাজ্য ভ্রমণকারীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
logo-1-1740906910.png)