জার্মানিতে শরণার্থীদের সমাজে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রণীত ইন্টিগ্রেশন আইন দশ বছর পূর্ণ করেছে। ২০১৬ সালের আগস্টে চালু হওয়া এ আইনকে কেন্দ্র করে তখন থেকেই জার্মান সমাজে ‘বিভক্ত সমাজ’ শব্দবন্ধটি আলোচনায় আসে। একদিকে শরণার্থীদের স্বাগত জানানোর প্রবণতা, অন্যদিকে সংশয় ও বিরোধিতা— এই দুই বাস্তবতার মধ্যে আইনটি কার্যকর হয়।
আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ সহজ করা। সিরিয়া থেকে আসা শরণার্থীদের ঢল সামলাতে তৎকালীন চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেলের নেতৃত্বে সরকার আইনটি প্রণয়ন করে। নীতির ভিত্তি ছিল ‘সমর্থন ও চ্যালেঞ্জ’ অর্থাৎ সহায়তা দেওয়া হলেও শর্তও আরোপ করা।
আইন নিয়ে শুরু থেকেই ভিন্নমত ছিল। কেউ কেউ মনে করেন, শরণার্থীদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে, আবার অন্যদের মতে শর্তগুলো ছিল অতিরিক্ত কঠোর। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও অনেককে ফেরত পাঠানো হয়নি। আবার বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের অনুমতি পেতে কঠিন শর্তের কারণে অনেকের একীভূতকরণ ব্যাহত হয়েছে।
আইনের আওতায় ভাষা শিক্ষা ও ইন্টিগ্রেশন কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে সামাজিক সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার মতো শাস্তি ছিল। একই সঙ্গে শরণার্থীদের বড় শহরে অতিরিক্ত চাপ এড়াতে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। যাদের আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হলেও দেশে ফেরত যাওয়া নিরাপদ ছিল না, তাদের তিন বছরের প্রশিক্ষণ ও পরবর্তী দুই বছরের কাজের সুযোগ দেওয়া হয়।
ইনস্টিটিউট ফর এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চের হেরবার্ট ব্র্যুকার মনে করেন, বসবাসের শর্তাবলী নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখায় শ্রমবাজারে প্রবেশে বাধা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি প্রশিক্ষণ নীতির প্রশংসা করেন। তার মতে, যারা ভাষা শেখে ও কাজ খোঁজে, তাদের থেকে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া যুক্তিযুক্ত।
এক্সপার্ট কাউন্সিলের হোলগার কোলব বলেন, কঠোর নিয়ন্ত্রণ চাইলে মনে হয় শর্ত কম ছিল, আবার অন্যদের কাছে শর্ত অতিরিক্ত কঠিন মনে হয়েছে।
১০ বছর পর দেখা যাচ্ছে, শরণার্থীদের কর্মসংস্থানের হার ৬৫ থেকে ৬৭ শতাংশের মধ্যে, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে মাত্র তিন শতাংশ কম। ফলে জার্মানি ইউরোপে শীর্ষে রয়েছে। ব্র্যুকারের মতে, ইন্টিগ্রেশন কোর্স ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এর বড় কারণ।
ব্র্যুকার মনে করেন, আইন পরিবর্তনের সুযোগ পেলে তিনি আশ্রয় প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতেন, বসবাসের শর্ত শিথিল করতেন এবং আগমনের এক মাসের মধ্যেই ইন্টিগ্রেশন কোর্স শুরু করতেন। এতে যোগ্য শরণার্থীরা দ্রুত সমাজে মিশে যেতে পারতেন এবং অনুপযুক্তদের দ্রুত ফেরত পাঠানো সম্ভব হতো।
logo-1-1740906910.png)