ইউরোপ ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত নথি হলো শেনজেন ভিসা। এটি মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি প্রবেশ অনুমতি, যা ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকার সুযোগ দেয়। বর্তমানে শেনজেন অঞ্চলে রয়েছে ২৭টি দেশ, যেখানে এই ভিসা কার্যকর।
শেনজেন ভিসা তিন ধরনের হয়ে থাকে।
প্রথমত, সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা, যা দিয়ে একবার প্রবেশ করা যায়।
দ্বিতীয়ত, মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা, যা নির্দিষ্ট মেয়াদে একাধিকবার প্রবেশের সুযোগ দেয়।
তৃতীয়ত, এয়ারপোর্ট ট্রানজিট ভিসা, যা বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ট্রানজিট এলাকায় অবস্থানের অনুমতি দেয়, তবে বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য শেনজেন ভিসা বাধ্যতামূলক। তবে কূটনীতিক, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, শরণার্থী বা স্কুল ভ্রমণে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রয়েছে। এছাড়া কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য এয়ারপোর্ট ট্রানজিট ভিসা বাধ্যতামূলক হলেও নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ এ নিয়ম থেকে অব্যাহতি পান।
শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটে আবেদন জমা দিতে হয়। যদি একাধিক দেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে, তবে যেখানে সবচেয়ে বেশি সময় কাটানো হবে সেই দেশের কনস্যুলেটে আবেদন করতে হবে। সমান সময় থাকলে প্রথম যে দেশে প্রবেশ করবেন, সেই দেশের কনস্যুলেটে আবেদন করতে হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা হলো ভ্রমণের তারিখের অন্তত ১৫ দিন আগে এবং সর্বোচ্চ ৬ মাস আগে। অনেক ক্ষেত্রে কনস্যুলেটে আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়।
আবেদনের জন্য প্রয়োজন বৈধ পাসপোর্ট, যার মেয়াদ ভ্রমণ শেষে অন্তত তিন মাস থাকতে হবে। এছাড়া ভিসা আবেদন ফরম, ছবি, মেডিকেল ইনস্যুরেন্স, আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ, থাকার জায়গার নিশ্চয়তা এবং নিজ দেশে ফেরার ইচ্ছার প্রমাণ দিতে হয়। আবেদনকারীর আঙুলের ছাপও সংগ্রহ করা হয়।
শেনজেন ভিসার ফি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৯০ ইউরো, শিশুদের জন্য কম। আর্মেনিয়া, আজারবাইজান ও বেলারুশের নাগরিকদের জন্য ফি ৩৫ ইউরো, আর কেপ ভার্দের আবেদনকারীদের জন্য ৬৭.৫০ ইউরো। কিছু ক্ষেত্রে ফি মওকুফের সুযোগও রয়েছে।
সাধারণত আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হতে ১৫ দিন সময় লাগে। তবে জটিল ক্ষেত্রে সময় ৪৫ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ও বিনামূল্যে ভিসা পেতে পারেন।
যদি আবেদন বাতিল হয়, তবে কারণ জানানো হয় এবং আপিল করার সুযোগ থাকে। অনেক আবেদনকারী যেমন সুইডেনে ভিসা প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যেখানে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)