Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

ইইউতে অস্থায়ী ও খণ্ডকালীন কাজে বেশি যুক্ত অভিবাসীরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৩

ইইউতে অস্থায়ী ও খণ্ডকালীন কাজে বেশি যুক্ত অভিবাসীরা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা স্থানীয়দের তুলনায় অস্থায়ী ও খণ্ডকালীন চাকরিতে বেশি যুক্ত হচ্ছেন। ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কর্মসংস্থানের সামগ্রিক ব্যবধান কমলেও নাগরিকত্ব ও অভিবাসন মর্যাদা এখনো চাকরির ধরন ও স্থায়িত্বকে প্রভাবিত করছে।

২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইইউর বাইরে থেকে আসা ২০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী অভিবাসীদের মধ্যে অস্থায়ী চাকরির হার সবচেয়ে বেশি ছিল। তবে সময়ের শেষ দিকে এসে এই হার কিছুটা কমে আসে। তখন অ-ইইউ নাগরিকদের ২২ শতাংশ অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক চাকরিতে ছিলেন, যেখানে অন্য ইইউ দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে তা ছিল ১২ শতাংশ এবং স্থানীয়দের ক্ষেত্রে ১১ শতাংশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, অ-ইইউ নাগরিকদের মধ্যে স্বনিয়োজিত মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তারা বেশি যুক্ত হচ্ছেন অস্থায়ী চুক্তি ও খণ্ডকালীন কাজে। এর পেছনে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, দক্ষতার ঘাটতি এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করা হয়েছে।

ইউরোনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত পছন্দ ও পরিস্থিতিও চাকরির ধরন নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। অনেক অভিবাসী মৌসুমি কাজকে প্রাধান্য দেন, যাতে তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন। আবার কেউ কেউ নমনীয় কর্মঘণ্টার কারণে খণ্ডকালীন কাজ বেছে নেন।

ওইসিডি ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে কর্মসংস্থানকে সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, অভিবাসীদের শিক্ষাগত অবস্থা চাকরির ধরন ও দক্ষতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গত এক দশকে অভিবাসীদের দক্ষতার স্তর বেড়েছে, ফলে স্থানীয়দের সঙ্গে ব্যবধান কিছুটা কমেছে। তবুও ইইউতে প্রাথমিক বা স্বল্প-দক্ষতার প্রায় ৩০ শতাংশ চাকরিতে অভিবাসীরা কর্মরত। জার্মানভাষী দেশ, সাইপ্রাস, নরওয়ে ও সুইডেনে এই হার ৫০ শতাংশেরও বেশি।

উচ্চশিক্ষিত অভিবাসীদের ৪৭ শতাংশ তাদের যোগ্যতার তুলনায় কম দক্ষতার চাকরি করছেন বা কর্মসংস্থানের বাইরে রয়েছেন। স্থানীয়দের ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ। তবে যে দেশে অভিবাসীরা বসবাস করছেন সেই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন করলে স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের যোগ্যতার ব্যবধান ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

গবেষণায় লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যও উঠে এসেছে। নারীদের কর্মসংস্থানের হার ছিল ৭১ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ৮১ শতাংশ। তিনটি নাগরিকত্ব শ্রেণিতেই নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি অস্থায়ী চাকরিতে যুক্ত ছিলেন। ইটালি, স্পেন ও পর্তুগালে এই পার্থক্য বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়।

নারীদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে পরিবারের সদস্যদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্বকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেক নারী সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের দেখাশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করতে বাধ্য হন। অভিবাসী নারীরা স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সেবা, শিক্ষা, আতিথেয়তা, পরিচ্ছন্নতা ও গৃহস্থালি কাজে বেশি যুক্ত থাকেন, যেখানে অস্থায়ী চাকরির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।

গবেষণাটি বলছে, কর্মপরিস্থিতির উন্নতি হলেও নাগরিকত্ব ও অভিবাসন মর্যাদা এখনো চাকরির ধরন, স্থায়িত্ব ও স্বাধীনতাকে প্রভাবিত করছে। তবে অস্থায়ী চাকরিকে সবসময় নেতিবাচক হিসেবে দেখা উচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে এবং ব্যক্তিগত পরিকল্পনার সঙ্গে মানানসই হতে পারে। মূল প্রশ্ন হলো, এসব চাকরি কর্মীরা স্বেচ্ছায় বেছে নিচ্ছেন কি না, এতে পর্যাপ্ত বেতন ও সুরক্ষা আছে কিনা এবং ভবিষ্যতে আরো স্থায়ী কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করছে কিনা।

Logo