২০২৬ সালের ইন্টারন্যাশনস এক্সপ্যাট ইনসাইডার জরিপে প্রবাসীদের জন্য বিশ্বের সেরা দেশগুলোর তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। ৩১টি দেশকে জীবনমান, সহজে মানিয়ে নেওয়া, বিদেশে কাজের সুযোগ, ব্যক্তিগত অর্থনীতি এবং বাসস্থান ও ডিজিটাল সেবার মতো বাস্তব সুবিধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
এবারের তালিকায় প্রবাসীদের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ও সাশ্রয়ী জীবনযাপনের সুযোগ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে সাতটি দেশকে সবচেয়ে সহজে মানিয়ে নেওয়ার জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর পাঁচটি দেশ ব্যক্তিগত অর্থনীতির দিক থেকে বিশ্বে এগিয়ে রয়েছে।
প্রথম স্থানে রয়েছে পানামা, টানা তৃতীয়বারের মতো। কাজের সুযোগ ও ব্যক্তিগত অর্থনীতির সূচকে পানামা শীর্ষে। এখানে ৮৭ শতাংশ প্রবাসী জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট, আর ৯০ শতাংশের মতে বাসস্থান পাওয়া সহজ। কানাডা থেকে আসা রেজা মোটালেবপুর জানিয়েছেন, পানামায় রিমোট কাজ করা সহজ, ইন্টারনেট নির্ভরযোগ্য এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুবিধাজনক।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মেক্সিকো, যা প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে সহজে মানিয়ে নেওয়ার দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ৭৩ শতাংশ প্রবাসীর মতে স্থানীয়দের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা সহজ। তবে নিরাপত্তার দিক থেকে দেশটি পিছিয়ে, যেখানে মাত্র ৬৮ শতাংশ প্রবাসী নিজেদের নিরাপদ মনে করেন।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড, যেখানে প্রবাসীরা সবচেয়ে সুখী। ৮৬ শতাংশ প্রবাসী জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট এবং ৮৫ শতাংশ খরচের দিক থেকে ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন। ব্রিটিশ নাগরিক বেথান জিনটিপ্রাফেট জানিয়েছেন, থাইল্যান্ডে জীবনযাপন সাশ্রয়ী এবং শিক্ষাব্যবস্থা তাঁর সন্তানের জীবন বদলে দিয়েছে।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ক্যারিয়ার সম্ভাবনা ও ভিসা-সংক্রান্ত সুবিধার কারণে দেশটি প্রবাসীদের কাছে আকর্ষণীয়। দুবাইয়ে বসবাসরত মিশেল স্টার্লিং বলেন, “দুবাইতে জীবনযাপন নিরাপদ, আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী।”
পঞ্চম স্থানে এসেছে ব্রাজিল, প্রথমবারের মতো শীর্ষ পাঁচে। স্থানীয়দের উষ্ণতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ প্রবাসীদের কাছে দেশটিকে বিশেষ করে তুলেছে। বার্বাডোস থেকে আসা ক্লিন্ট ম্যানিং বলেন, “ব্রাজিলিয়ানরা আমাকে কখনো বাইরের মানুষ মনে করেনি, বরং পরিবারের মতো গ্রহণ করেছে।”
শীর্ষ ১০ তালিকা
১. পানামা
২. মেক্সিকো
৩. থাইল্যান্ড
৪. ইউএই
৫. ব্রাজিল
৬. স্পেন
৭. সিঙ্গাপুর
৮. পর্তুগাল
৯. মালয়েশিয়া
১০. লুক্সেমবার্গ
জরিপে দেখা গেছে, প্রবাসীরা শুধু সুন্দর পরিবেশ বা অর্থনৈতিক সুযোগের জন্য নয়, বরং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ এবং সাশ্রয়ী জীবনযাপনের কারণে এসব দেশকে বেছে নিচ্ছেন। পানামার ধীর জীবনযাত্রা, মেক্সিকোর সামাজিক বন্ধন, থাইল্যান্ডের সাশ্রয়ী খরচ, ইউএই-এর ক্যারিয়ার সুযোগ এবং ব্রাজিলের উষ্ণ সংস্কৃতি প্রবাসীদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
logo-1-1740906910.png)