Logo
×

Follow Us

এশিয়া

মালদ্বীপে বাংলাদেশি শ্রমিকদের হাহাকার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৭

মালদ্বীপে বাংলাদেশি শ্রমিকদের হাহাকার

ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মালদ্বীপে পাড়ি জমানো হাজারো বাংলাদেশি শ্রমিক আজ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। শেষ সম্বল বিক্রি করে, পরিবারের সঞ্চয় শেষ করে, এমনকি মাথায় ৭-৮ লাখ টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে বিদেশে আসা শ্রমিকদের বড় অংশই কাজের সুযোগ না পেয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। দেশে পরিবার ঋণ শোধের অপেক্ষায় দিন গুনছে, আর প্রবাসে শ্রমিকরা কাটাচ্ছেন অনিশ্চিত বেকার জীবন।

এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালদ্বীপে আরো কর্মসংস্থান বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগী শ্রমিকদের মতে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ ইতোমধ্যেই কাজের অভাবে দিশেহারা, সেখানে নতুন করে কর্মী পাঠানোর তোড়জোড় তাদের দুর্দশাকে আরো বাড়িয়ে দেবে। প্রশ্ন উঠছে, যারা ইতোমধ্যেই প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়েছেন, তাদের বৈধভাবে কাজের সুযোগ কতজন পাচ্ছেন?

বাস্তবতা হলো, মালদ্বীপে শ্রম অভিবাসন এখন এক নির্মম ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। কিছু অসাধু স্থানীয় ও বাংলাদেশি চক্রের যোগসাজশে নামসর্বস্ব কোম্পানি বা ছোট ব্যবসা খুলে ভুয়া কোটা বের করা হচ্ছে। পরে সেই কোটা চড়া দামে বিক্রি করা হয়। কিছুদিন পর মালিকানা হাতবদল হয়, আর নতুন মালিক আবার নতুন নামে কোটা বিক্রির ফাঁদ পাতে। ফলে শ্রমিকরা প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।

একসময় মালদ্বীপের মালিকরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক নিয়োগ করতেন এবং খরচও বহন করতেন। অথচ আজ সামান্য কাজের আশায় শ্রমিকদেরই সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে। প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকেই বৈধতা হারিয়ে বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অথচ বাস্তবে কাজের সুযোগ নেই। এ অবস্থায় নতুন কোটা আনার উদ্যোগের আগে মালদ্বীপ সরকার ও বাংলাদেশ দূতাবাসের উচিত পুরোনো শ্রমিকদের বৈধতা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হলে কোটা বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতারক ও অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রবাসী শ্রমিকরা কোনো বাণিজ্যের পণ্য নন, তারা রক্ত-মাংসের মানুষ, যাদের পেছনে পরিবার ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন জড়িত।

Logo