চীন আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম চালু করছে। রাষ্ট্রপরিষদের অনুমোদিত এই বিধিমালা ভ্রমণ আবেদন, প্রবেশ-প্রস্থান সীমাবদ্ধতা এবং ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত মধ্যস্থতাকারী সেবার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে।
নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, চীনে প্রবেশ বা দেশ ছাড়ার আবেদন অবশ্যই সত্য ও আইনসম্মত হতে হবে। ভিসা ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে এবং তাদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য যাচাইয়ের জন্য নথি, উপকরণ ও ইলেকট্রনিক তথ্য চাইতে পারবে। ভুয়া তথ্য বা নথি জমা দিলে ভ্রমণ নথি বা প্রবেশ-প্রস্থানের অনুমতি বাতিল হতে পারে।
চীনা নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হবে যদি তারা এমন কোনো দেশে যেতে চান যেখানে সশস্ত্র সংঘাত, অপরাধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বড় দুর্ঘটনা বা সংক্রামক রোগের ঝুঁকি রয়েছে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হবে, তবে শুধুমাত্র সতর্কতা জারি করলেই ভ্রমণ নিষিদ্ধ হবে না।
যেসব নাগরিক ভুয়া নথি ব্যবহার করে প্রবেশ-প্রস্থান করেছেন বা অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের শাস্তি শেষে ছয় মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। একইভাবে, বিদেশে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করলে দেশে ফেরার পরও একই মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।
বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ভিসা আবেদন বা সীমান্তে প্রবেশের সময় ভুয়া নথি দিলে তাদের এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত চীনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। একই মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে যদি তারা সীমান্ত প্রশাসন ব্যাহতকারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।
যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আমন্ত্রণপত্র বা আবেদনপত্র প্রদান করবে, তাদের নথির যথার্থতার জন্য দায় নিতে হবে। ভুয়া নথি দিলে ব্যক্তি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার ইউয়ান জরিমানা এবং প্রতিষ্ঠান ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ইউয়ান জরিমানা দিতে হবে। অবৈধভাবে অর্জিত আয় বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আলাদা জরিমানা করা হবে।
ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন প্রতিষ্ঠানকে ১৫ দিনের মধ্যে স্থানীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন করতে হবে। পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৯০ দিনের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ভুয়া তথ্য প্রচার, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন, জাল নথি প্রদান বা অবৈধ কার্যক্রমে সহায়তা করলে তাদের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।
নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, ভ্রমণকারীদের মোবাইল ফোন নির্বিচারে তল্লাশি করা হবে না। তবে পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজনে ইলেকট্রনিক তথ্য চাইতে পারে কর্তৃপক্ষ।
চীনের বিদ্যমান ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার কার্যকর থাকবে। বর্তমানে ৫০টি দেশের নাগরিকরা একতরফা ভিসামুক্ত সুবিধা পাচ্ছেন, যা সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য প্রযোজ্য। এছাড়া ২৪০ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসামুক্ত নীতি ৫৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য চালু রয়েছে।
logo-1-1740906910.png)