২০২৬ সালে অভিবাসী মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ: জাতিসংঘ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫২
২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে অভিবাসীর মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ১২ আগস্ট প্রকাশিত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) নতুন তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ আবহাওয়া, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং নীতিগত পরিবর্তন অভিবাসন পথগুলোকে আরো বিপজ্জনক করে তুলেছে।
আইওএমের সর্বশেষ রিপোর্টে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগর থেকে আটলান্টিক পর্যন্ত বিভিন্ন রুটে অভিবাসীরা প্রাণ হারাচ্ছেন। অনেকেই মানব পাচারকারী ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। আইওএমের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল উগোচি ড্যানিয়েলস বলেন, “ভালো তথ্য সমাধানের বিকল্প নয়, তবে সমাধান ছাড়া ভালো তথ্যও কাজে আসে না। জীবন রক্ষা একটি যৌথ দায়িত্ব, যা কোনো একক দেশ পূরণ করতে পারে না।”
রিপোর্টে দেখা গেছে, কিছু রুটে আগমন কমলেও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চলীয় রুটে ৮২১ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় ১১১ শতাংশ বেশি। অথচ আগমন কমেছে ৪৬ শতাংশ। জানুয়ারিতে সাইক্লোন হ্যারি আঘাত হানার সময়ই অর্ধেকের বেশি মৃত্যু ঘটে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে মৃত্যুর সংখ্যা তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৪ জনে, যার বেশির ভাগই ক্রিট দ্বীপের কাছে ঘটে।
অন্যদিকে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে স্পেনে আগমন বেড়েছে ৬৬ শতাংশ, বিশেষ করে সেউতা ও মেলিলায় স্থলপথে প্রবেশ তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার আটলান্টিক রুটে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশ কমে মাত্র ২ হাজার ২৭৬ জন স্পেনে পৌঁছেছেন। যাত্রার পথ আরো দক্ষিণে সরে যাওয়ায় ভ্রমণ দীর্ঘ ও বিপজ্জনক হয়েছে। ইয়েমেনে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে আগমন বেড়েছে ৯ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে লেবাননে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে এবং সিরিয়ায় সীমান্ত পেরিয়ে ফেরত আসা বেড়েছে।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। মিয়ানমারের রাখাইন থেকে যাত্রা করা দুটি নৌকা জুনের শেষে ডুবে যায়, যেখানে ৫০০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। ২০২৫ সালে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রা করেছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ৯০০ জন মারা যান। এদের দুই-তৃতীয়াংশই নারী ও শিশু। আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রতি সাতজনের একজন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, যা বিশ্বে শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রপথে মৃত্যুর সর্বোচ্চ হার।
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানব পাচার ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মানবাধিকারভিত্তিক প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। যেমন সুরক্ষা সেবা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার। তারা মনে করিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ দায়িত্ব ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
logo-1-1740906910.png)