জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সতর্ক করেছে, বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষ মানব পাচারকারী চক্রের হাতে পড়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণায় নিযুক্ত হচ্ছে। ৩০ জুলাই ‘মানব পাচার বিরোধী বিশ্ব দিবস’-এর আগে প্রকাশিত এই বার্তায় বলা হয়েছে, প্রতারণার শিকার মানুষদের অপরাধী নয়, বরং ভুক্তভোগী হিসেবে দেখা উচিত।
আইওএম জানিয়েছে, ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। পৌঁছানোর পর তাদের কম্পাউন্ডে আটকে রাখা হয়, নথি কেড়ে নেওয়া হয় এবং নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির মধ্যে সহিংসতা, হুমকি ও ঋণের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়। উদ্ধার হওয়া অনেকেই জানিয়েছেন, তারা নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, অনাহার ও একাকী বন্দিত্বের শিকার হয়েছেন।
আইওএম মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, “প্রতারণার কম্পাউন্ডে আটকে থাকা মানুষরা মানবপাচারের শিকার। তাদের সুরক্ষা দিতে হবে, শাস্তি নয়। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে ভুক্তভোগীদের সহায়তা করতে, পাচারকারীদের থামাতে এবং অপরাধী নেটওয়ার্কগুলো ধ্বংস করতে।”
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তরের (ইউএনওডিসি) নতুন তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ২০২৫ সালে সাইবার প্রতারণার কারণে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৮.৩ বিলিয়ন থেকে ১১৪.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এসব প্রতারণা কেন্দ্রেই লাখো মানুষ আটকে রাখা হয়েছে।
আইওএম ইতোমধ্যেই ২০২৬-২০৩০ মেয়াদে নতুন আঞ্চলিক কৌশল ঘোষণা করেছে। এতে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, প্রতিরোধ, সীমান্ত সহযোগিতা এবং পাচারকারী নেটওয়ার্ক ভাঙার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংস্থাটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৩৯টি দেশের ৩ হাজার ৫০০ জন ভুক্তভোগীকে সহায়তা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ এসেছেন ইন্দোনেশিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইথিওপিয়া, কেনিয়া ও বাংলাদেশ থেকে।
আইওএম বলছে, উদ্ধার হওয়া মানুষদের জন্য শুধু মুক্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন। তারা গুরুতর মানসিক আঘাত, সামাজিক কলঙ্ক, ঋণ, হারানো নথি এবং মামলা হওয়ার ভয়ে ভুগছেন। তাই তাদের নিরাপদে দেশে ফেরানো, পুনর্বাসন ও পুনঃএকীকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংস্থাটি আরো বলেছে, পাচারকারীদের কৌশল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মানুষকে জানাতে হবে কীভাবে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন ও প্রতারণার ফাঁদ কাজ করে এবং কোথায় সাহায্য পাওয়া যায়।
logo-1-1740906910.png)