Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

সাইবার স্ক্যামে প্রতারকচক্রের বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৭

সাইবার স্ক্যামে প্রতারকচক্রের বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

এশিয়াজুড়ে সাইবার প্রতারণা কেন্দ্রগুলো এখন এক ভয়াবহ ব্যবসায়িক অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, প্রায় তিন লাখ মানুষ বর্তমানে কম্বোডিয়া, লাওস ও মিয়ানমারের দুর্গসদৃশ কম্পাউন্ডে বন্দি অবস্থায় প্রতারণার কাজে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন দেখিয়ে প্রলুব্ধ করা হয়, পরে পাসপোর্ট ও নথি কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক প্রতারণায় নিযুক্ত করা হয়।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তরের (ইউএনওডিসি) হিসাব অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে সাইবার প্রতারণার কারণে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অর্থের বড় অংশই সংগঠিত অপরাধচক্রের হাতে গেছে। অর্থাৎ প্রতারণা এখন একটি বহুজাতিক অপরাধী অর্থনীতিতে রূপ নিয়েছে।

চীনা সিন্ডিকেটগুলোকে এই শিল্পের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে তারা শিল্পায়িত প্রতারণা কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। এখানে হাজার হাজার মানুষকে বন্দি করে রাখা হয় এবং তাদের ভাষাজ্ঞান ও প্রযুক্তি দক্ষতাকে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রতারণার লক্ষ্যবস্তু মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর বয়স্ক নাগরিকরা, যাদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এই ব্যবসায়িক মডেল শ্রমবাজারে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে শিক্ষিত তরুণরা বিদেশে যাচ্ছেন, কিন্তু প্রকৃত কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না। বরং তারা প্রতারণার ফাঁদে পড়ে শ্রমবাজার থেকে ছিটকে যাচ্ছেন। ফলে বৈধ শ্রমবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া ও কেনিয়ার মতো দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতারিত হয়ে যাচ্ছে।

শ্রমবাজারে এই ধসের ফলে বৈধ নিয়োগকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দক্ষ জনশক্তি পাচার হয়ে প্রতারণার কাজে নিযুক্ত হওয়ায় উৎপাদনশীল খাতগুলোতে শ্রমিক সংকট দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় ও অনাস্থা তৈরি হচ্ছে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, প্রতারণা কেন্দ্রগুলো একটি সমান্তরাল অর্থনীতি তৈরি করেছে। এখানে বিনিয়োগ হচ্ছে অবৈধভাবে ভুয়া এজেন্সি, দালাল ও সিন্ডিকেটগুলো কোটি কোটি টাকা আয় করছে। প্রতারণার অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে বৈধ অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অবৈধ অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে।

আইওএম বলছে, উদ্ধার হওয়া মানুষদের জন্য শুধু মুক্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন। তারা গুরুতর মানসিক আঘাত, ঋণ, হারানো নথি এবং মামলা হওয়ার ভয়ে ভুগছেন। তাই তাদের নিরাপদে দেশে ফেরানো, পুনর্বাসন ও পুনঃএকীকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

Logo