Logo
×

Follow Us

এশিয়া

কলকাতার নিউ মার্কেটে বাংলাদেশিদের ভিড়, ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৫

কলকাতার নিউ মার্কেটে বাংলাদেশিদের ভিড়, ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ভ্রমণ ভিসা ফের চালু হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে মেডিকেল ভিসার অনুমোদন। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কলকাতার নিউ মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকায়, যা দীর্ঘদিন ধরে ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত। ধীরে ধীরে ফিরছে ব্যবসার পুরোনো ছন্দ, বাড়ছে বাংলাদেশি পর্যটকদের আনাগোনা।

বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন যাত্রী যাতায়াত করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনে। অন্যান্য স্থলবন্দর ও বিমানপথ মিলিয়ে প্রতিদিন ভারতে আসা বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা এখন আনুমানিক পাঁচ হাজারের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ আসছেন চিকিৎসার জন্য মেডিকেল ভিসায়, আর বাকি ২০ শতাংশ আসছেন ভ্রমণ ও অন্যান্য ভিসায়।

বাংলাদেশি পর্যটকদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য নিউ মার্কেট ও মারকুইস স্ট্রিট। দুই বাংলার ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির মিল থাকায় কলকাতা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশিদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল, গেস্ট হাউস, মানি এক্সচেঞ্জ, ট্রাভেল এজেন্সি, কসমেটিকস ও পোশাকের দোকান। ফলে পর্যটকদের আগমন বাড়তেই ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে।

মারকুইস স্ট্রিটের আরএনটেগোর হাসপাতালের কর্মকর্তা জাফর খান বলেন, “আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো হয়েছে। এখন প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ মেডিকেল ভিসায় আসছেন।” পরিবহন ব্যবসাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সোহাগ পরিবহনের কর্মকর্তা সুরজিৎ ঘোষ জানান, প্রতিদিন একটি গাড়ি সীমান্তে যাচ্ছে, যাত্রী সংখ্যা আরো বাড়লে গাড়ির সংখ্যা বাড়ানো হবে। গ্রিনলাইন পরিবহনের কর্মকর্তা শ্যামল ঘোষ বলেন, “আগের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ যাত্রী বেড়েছে। বর্তমানে তিনটি গাড়ি চলছে, ভবিষ্যতে আরো বাড়ানো হবে।”

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। মারকুইস স্ট্রিটের মানি এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তা জগবন্ধু সাহা জানান, আগে বাংলাদেশি পর্যটক ছিল প্রায় ১০ শতাংশ, এখন তা বেড়ে ২০ শতাংশ হয়েছে। তবে অনেকেই চিকিৎসার জন্য সরাসরি চেন্নাই, দিল্লি বা মুম্বাই চলে যাচ্ছেন, ফলে কলকাতায় রোগী ও পর্যটকের সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম। তিনি আশা করছেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতি আরো উন্নত হবে।

বাংলাদেশি পর্যটক নাবিল রিয়াজ জসিমউদ্দিন বলেন, “রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, কিন্তু দুই বাংলাতেই শান্তি বিরাজ করছে। কলকাতায় এসে আমি কোনো সমস্যার মুখোমুখি হইনি।” তার মতো অনেকেই আশা করছেন, দুই দেশের সম্পর্কের শীতলতা কাটবে, আরো বাড়বে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ।

Logo