দক্ষিণ কোরিয়ায় পতিতাবৃত্তি দমনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে দুই মাসে মোট ১ হাজার ৬৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জাতীয় পুলিশ সংস্থা। জুন থেকে জুলাই পর্যন্ত চলা এ অভিযানে ৭৬১টি মামলা উন্মোচিত হয় এবং প্রায় ১৯.৫ বিলিয়ন উন (১৩.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সন্দেহজনক অপরাধমূলক অর্থ জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযানে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই পতিতাবৃত্তির বিস্তার ধরা পড়ে। অনলাইনে ৫৬৯টি মামলা ও ১ হাজার ২৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ১৭৬টি মামলা ওয়েবসাইটভিত্তিক, ৩৬৮টি মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে এবং ২৫টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য চ্যানেলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
অফলাইনে ১৯২টি মামলা ও ৪৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ১৫২টি মামলা ছিল ম্যাসাজ পার্লারভিত্তিক, যেখানে ৩৩১ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া নাইটলাইফ প্রতিষ্ঠান ও রেড-লাইট এলাকায়ও কয়েকটি মামলা ধরা পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ অভিযানে মূলত সংগঠিত ও ব্যবসায়িক পরিসরে পরিচালিত পতিতাবৃত্তি চক্রকে টার্গেট করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ ধরনের মামলার সংখ্যা পাঁচ গুণ বেড়ে ৫০-এ দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধমূলক অর্থ জব্দের পরিমাণও ৩০৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯.৫ বিলিয়ন উন।
অভিযানে সিউলের গ্যাংনাম এলাকায় প্রায় ২ হাজার ৬৪৫ বর্গমিটার আয়তনের একটি বিশাল নাইটলাইফ প্রতিষ্ঠান ধরা পড়ে। সেখানে ৬৫টি প্রাইভেট রুম ছিল এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করা হতো। পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং ৩২০ মিলিয়ন উন নগদ অর্থসহ ৩৮টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে।
ইনচন মেট্রোপলিটন পুলিশ সাতটি ভাড়া করা অফিসটেলে পতিতাবৃত্তি পরিচালনার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে দেখা যায়, তারা ৯ হাজার ২০১ বার পতিতাবৃত্তির আয়োজন করেছে।
গিয়ংগি নাম্বু প্রাদেশিক পুলিশ ১৯.১ বিলিয়ন উন অর্থ পাচারের অভিযোগে দুজনকে আটক করে। তারা পতিতাবৃত্তি ওয়েবসাইটের অর্থ গিফট সার্টিফিকেটে রূপান্তর করছিল।
ডেগু মেট্রোপলিটন পুলিশ তিনজন থাই নারীকে মানব পাচারের মাধ্যমে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগে ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় প্রথমবারের মতো মানব পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়।
এছাড়া ১৭ জনকে আটক করা হয় যারা ১৮ বছরের নিচে ১০ জন কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। ভুক্তভোগীদের লিঙ্গ সমতা মন্ত্রণালয় ও কাউন্সেলিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় পুলিশ সংস্থার অপরাধ প্রতিরোধ বিভাগের প্রধান লি সিউং-হিউপ বলেন, “আমরা তদন্তকারী দলকে সম্প্রসারণ করেছি এবং নতুন ইউনিট গঠন করেছি। এ ধরনের অভিযান আরো জোরদার করা হবে।”
logo-1-1740906910.png)