অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসা কমানোর প্রস্তাবে উদ্বেগ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩৫
অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ভিসা কমানোর প্রস্তাব নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী খাত অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলেও আবাসন সংকট, বাড়তি ভাড়া এবং নাগরিক পরিষেবার ওপর চাপের অজুহাতে অভিবাসন সীমিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
কট্টর ডানপন্থি ‘ওয়ান নেশন’ দলের নেতা পলিন হ্যানসন বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য আসেন, তাই পরিবারের সঙ্গে থাকতে চাইলে নিজ দেশে বসেই অনলাইন ক্লাস করা উচিত। অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ জোট স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি সীমিত করার দাবি তুলেছে।
ক্ষমতাসীন লেবার সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সীমায় বাঁধতে আইনি পদক্ষেপ নিলেও তা সংসদের উচ্চকক্ষে আটকে যায়। তবে সরকার ইতোমধ্যে ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ পরীক্ষা জোরদার, ইংরেজির ন্যূনতম স্কোর বাড়ানো এবং ব্যাংকে প্রদর্শিত তহবিলের পরিমাণ বৃদ্ধি করার মতো নতুন শর্ত কার্যকর করেছে।
এই নীতি পরিবর্তন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী ও প্রবাসীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, পরিবারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়বে এবং অনেকেই বিকল্প দেশ বেছে নেবেন। সিডনির ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, “আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শুধু খরচ করেন না, তারা কঠোর পরিশ্রম করে স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখেন। পরিবারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করলে ভালো মানের শিক্ষার্থীরা অন্য দেশে চলে যাবে।”
একইভাবে সিডনির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিনা রহমান বলেন, “দীর্ঘ পড়াশোনার সময়ে মানসিক সমর্থনের জন্য পরিবারের পাশে থাকা জরুরি। জীবনসঙ্গীকে সঙ্গে আনার সুযোগ না দিলে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপে পড়বেন।”
অস্ট্রেলিয়া সরকার বলছে, উচ্চশিক্ষার মান ধরে রাখতে এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ কমাতে অভিবাসন নীতিতে শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন। তবে শিক্ষা খাতের উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত কঠোরতা অবলম্বন করলে বিশ্ব শিক্ষাবাজারে অস্ট্রেলিয়ার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)