হুমকির মুখে ইউরোপে সীমান্তমুক্ত চলাচল শেনজেন ব্যবস্থা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৬
ইউরোপের সীমান্তমুক্ত চলাচলের প্রতীক শেনজেন ব্যবস্থা আবারো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মরক্কো থেকে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল সেউতায় প্রায় ৭৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর প্রবেশের পর ইতালি সাময়িকভাবে শেনজেন চুক্তির আওতায় থাকা সীমান্তমুক্ত চলাচল স্থগিত করে। এর পাল্টা জবাবে স্পেনও ইতালি থেকে আসা সব ধরনের আকাশ ও সমুদ্রপথে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
অভিবাসন ইস্যুতে দুই দেশের বিরোধ এখন শুধু সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিতেও বিভাজন তৈরি করেছে। স্পেন মানবিক ও আইনি কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে ইতালি কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট করছে। সীমান্তবর্তী দেশগুলো অভিবাসনের চাপ সামলালেও দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ফলে অভিন্ন সীমান্ত ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সেউতার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি অভিবাসী অবস্থান করছে। বিশেষ করে অভিভাবকহীন শিশুদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মাদ্রিদ তাদের মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শেনজেন ব্যবস্থা ইউরোপের অবাধ চলাচলের অন্যতম ভিত্তি হলেও নিরাপত্তা ও অভিবাসন সংকটের সময় তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। স্পেন ও ইতালির বর্তমান বিরোধ তাই শুধু দুই দেশের দ্বন্দ্ব নয়, বরং ইউরোপের ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতির জন্যও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ নীতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এখন আরো স্পষ্ট। সীমান্তমুক্ত চলাচল বজায় রাখতে হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। অন্যথায় শেনজেন ব্যবস্থার স্থায়িত্ব বারবার প্রশ্নের মুখে পড়বে।
logo-1-1740906910.png)