যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে রেকর্ড ৫১ হাজার অভিবাসী আটক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যে এক মাসে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসী আটক করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যা আইসিইর ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে জুন মাসে প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ আটক হয়েছিল। ফলে টানা দ্বিতীয় মাসে নতুন রেকর্ড তৈরি হলো। দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান আরো জোরদার করেছেন। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীদের শনাক্ত করে বহিষ্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থাকে অভিযান বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে। জর্জিয়ায় পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ২২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকেও ৩০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, আটকের পাশাপাশি বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সরকার বলছে, অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সরিয়ে দেওয়াই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন দাবি করেছেন, অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের উদ্যোগকে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন করেন। তার মতে, অপরাধীদের সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ করা হচ্ছে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, সাম্প্রতিক অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই কোনো অপরাধে জড়িত নন। কারও কারও বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি বা বৈধ প্যারোলের কাগজপত্রও ছিল। এতে অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, অভিযানটি কি সত্যিই শুধু অপরাধীদের লক্ষ্য করছে, নাকি বৈধ অভিবাসীরাও এর শিকার হচ্ছেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকরা অভিযান আরো জোরদারের পক্ষে মত দিয়েছেন। ট্রাম্প-সমর্থক ওভারসাইট প্রজেক্টের প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়েল বলেছেন, আটক ব্যক্তির সংখ্যা তার প্রত্যাশার তুলনায় এখনো কম। তিনি কর্মস্থলগুলোতেও অভিবাসন আইন প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। একদিকে সরকার বলছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ জরুরি; অন্যদিকে অধিকারকর্মীরা বলছেন, বৈধ অভিবাসীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ফলে অভিবাসন নীতি নিয়ে দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা ও বিভাজন তৈরি হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)