ইউরোপে অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে স্পেন ও ইতালির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। স্পেন ঘোষণা দিয়েছে, ইতালি থেকে আসা সব ধরনের আকাশ ও সমুদ্রপথে ভ্রমণে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। শুক্রবার রাত থেকে কার্যকর হওয়া এই পদক্ষেপ চলবে এক মাস।
এর আগে ইতালি একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিল। লিবিয়া হয়ে মরক্কো থেকে প্রায় ৭৮ হাজার অভিবাসী স্পেনের উত্তর আফ্রিকার উপকূলীয় শহর সেউতায় প্রবেশ করার পর ইতালি শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করে। রোমের দাবি ছিল, এসব অভিবাসী ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রবেশ করতে পারে। তবে মাদ্রিদ এই যুক্তিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে এই বিরোধ এখন প্রকাশ্য। সানচেজের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক সরকার বলছে, ইতালির সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে মেলোনি দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে কঠোর অভিবাসন নীতির দাবি জানিয়ে আসছেন।
ইতালি জানিয়েছে, তারা কোনো আলটিমেটাম গ্রহণ করবে না এবং অন্তত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে। তাদের মতে, ওই সময় সেউতায় নতুন করে অভিবাসীর ঢল নামতে পারে। তবে স্পেন বলছে, এমন কোনো সম্ভাবনা নেই।
ইতালির কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, স্পেন থেকে আগত ইউরোপীয় নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত কোনো ঝামেলা নেই। কেবল অ-ইইউ নাগরিকদের জন্যই বাড়তি যাচাই করা হচ্ছে। তবুও স্পেনের সংবাদমাধ্যম এল পাইস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনে ইতালির বিমানবন্দরে দীর্ঘ সারি ও অপেক্ষার সময় বেড়েছে।
স্পেনের পাল্টা পদক্ষেপে ইতালি থেকে আগত যাত্রীদের পাসপোর্ট, জাতীয়তা ও ভিসা যাচাই করা হবে। সরকার জানিয়েছে, সেউতায় অভিবাসন চাপ অব্যাহত থাকায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ বলবৎ থাকবে।
অভিবাসন সংকটের পেছনে অপরাধী চক্রের ভূমিকা রয়েছে বলে ইউরোপীয় কমিশনের অভিবাসন বিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার মন্তব্য করেছেন। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অভিবাসীদের উসকে দেওয়া হয়েছে। স্পেনও এই মতের সঙ্গে একমত।
গত সপ্তাহে সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের বেশির ভাগকেই কয়েক দিনের মধ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে প্রায় ১,৪০০ অপ্রাপ্তবয়স্ক এখনো সেখানে অবস্থান করছে। এদের অনেকেই অতি অল্প বয়সী ছেলেমেয়ে।
মরক্কো জানিয়েছে, স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ই সংকটের মূল কারণ। আদালত বলেছে, সেউতা বা মেলিলায় প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের আর সরাসরি ফেরত পাঠানো যাবে না। মরক্কোর মতে, এই রায়ের ফলে প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
সেউতা ও মেলিলা নিয়ে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক বিরোধ রয়েছে। মরক্কো এখনো এই দুটি শহরে স্পেনের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে না। ফলে অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরো জটিল আকার ধারণ করছে।
logo-1-1740906910.png)