দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীদের দেশত্যাগে সংকটে অর্থনীতি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৩৬
দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসী শ্রমিকদের ব্যাপক প্রস্থান দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। জুনের শেষ দিকে শুরু হওয়া সহিংসতা ও অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনের পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার বিদেশি শ্রমিক দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। ফলে কৃষি, শিল্প, নির্মাণ ও গৃহসেবা খাতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।
কোয়াজুলু-নাটালের সুগার বেল্টে এর প্রভাব সবচেয়ে আগে দেখা যায়। স্থানীয় কৃষকরা জানাচ্ছেন, আখ কাটার শ্রমিকদের বড় অংশ হঠাৎ করেই চলে যাওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহে বিপর্যয় নেমেছে। একজন কৃষক জানিয়েছেন, তিনি এক রাতেই ৮০ শতাংশ শ্রমিক হারিয়েছেন। এতে মিলগুলো চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে ফলের বাগান ও আঙুরক্ষেতেও। লেসোথো থেকে আসা শ্রমিকরা চলে যাওয়ায় আঙুর কাটার মৌসুমে কাজ থমকে গেছে। স্থানীয়রা এই কাজ নিতে আগ্রহী নয় বলে অভিযোগ করছেন কৃষকরা। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বলছে, দেশে বেকারত্ব ৩৩ শতাংশের বেশি। স্থানীয়রা কাজ করতে প্রস্তুত, কিন্তু নিয়োগকর্তারা অভিবাসীদের পছন্দ করেন কারণ তারা কম মজুরিতে, দীর্ঘ সময় কাজ করেন এবং আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সুবিধা দাবি করেন না।
ডারবানের শিল্পাঞ্চলেও একই সংকট। মালাউই ও মোজাম্বিক থেকে আসা দক্ষ মেশিন অপারেটররা চলে যাওয়ায় পোশাক কারখানাগুলো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। স্থানীয় শ্রমিকদের দক্ষতা অর্জনে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন এক কারখানা ব্যবস্থাপক।
সরকার জনমত শান্ত করতে ‘লোকালস ফার্স্ট’ নীতি জোরদার করেছে। সম্প্রতি ট্রাস্টেড এমপ্লয়ার স্কিম সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যাতে স্থানীয়দের নিয়োগ দেওয়া কোম্পানিগুলো দ্রুত ভিসা অনুমোদন পায়। তবে কৃষি ও শিল্প খাতের সংগঠনগুলো বলছে, মৌসুমি শ্রমিক ছাড়া এসব খাত টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তারা যুক্তরাষ্ট্রের মতো মৌসুমি শ্রমিক কর্মসূচি চালুর দাবি জানিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষক উন্নয়ন সমিতির প্রধান সিয়াবোঙ্গা মাদলালা বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সাদাক (Southern African Development Community) দেশগুলো থেকে মৌসুমি শ্রমিক আনার বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারে। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিবাসীদের ৬০ শতাংশের বেশি সাদাক দেশ থেকে আসে।
তবে অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা নিরাপত্তা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত চারজন বিদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। জিম্বাবুয়ের ওয়েইন চিমবাদজওয়া মুতাসা জানিয়েছেন, তিনি ২০১৪ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিলেন কিন্তু সম্প্রতি পুলিশি অভিযানে লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর দেশে ফিরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে একই দেশের কৃষিশ্রমিক অ্যারন মাজাতামহে জানিয়েছেন, তিনি এখনো থেকে গেছেন কারণ দেশে ফেরার মতো অর্থ নেই।
logo-1-1740906910.png)