Logo
×

Follow Us

এশিয়া

সীমান্তের ওপারেই ডুয়ার্সের বন; কম বাজেটে ভ্রমণ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৮

সীমান্তের ওপারেই ডুয়ার্সের বন; কম বাজেটে ভ্রমণ

“ডুয়ার্স” শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে আদিম অরণ্যের ছবি। আকাশছোঁয়া গাছের সারি আর কালো জাতীয় সড়ক ধরে ছুটে চলা গাড়ি যেন মুহূর্তেই আপনাকে নিয়ে যায় বন্য হাতির পাল কিংবা ছুটে চলা সম্বর হরিণের কল্পনায়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এই বনভূমি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে খুব কাছেই। তাই কম বাজেটে ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য ডুয়ার্স হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য।

ডুয়ার্স মূলত হিমালয়ের পাদদেশে বিস্তৃত বনাঞ্চল। এখানে রয়েছে অসংখ্য চা-বাগান, নদী আর পাহাড়ি ঝরনা। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি একে করেছে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয়। বিশেষ করে যারা প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুদিন কাটাতে চান, তাদের জন্য ডুয়ার্স এক আদর্শ জায়গা।

বাংলাদেশ থেকে ডুয়ার্সে যাওয়া খুব কঠিন নয়। সীমান্ত পেরিয়ে ট্রেন বা বাসে সহজেই পৌঁছানো যায়। কলকাতা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত ট্রেন ভ্রমণ আর সেখান থেকে গাড়িতে ডুয়ার্সের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া যায়। খরচও তুলনামূলকভাবে কম। ফলে সীমিত বাজেটের ভ্রমণকারীরাও সহজে এই ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।

ডুয়ার্সে গেলে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বনভ্রমণ। গরুমারা, জলদাপাড়া, বক্সা টাইগার রিজার্ভসহ বিভিন্ন বনাঞ্চলে সাফারি করা যায়। এখানে হাতি, গণ্ডার, হরিণ, চিতাবাঘসহ নানা বন্যপ্রাণী দেখা যায়। বনভ্রমণের জন্য স্থানীয় বন দপ্তরের অনুমতি নিতে হয় এবং নির্দিষ্ট গাড়ি ব্যবহার করতে হয়।

এছাড়া ডুয়ার্সের চা-বাগানগুলোও ভ্রমণকারীদের কাছে সমান আকর্ষণীয়। সবুজে মোড়া বিস্তীর্ণ চা-বাগান আর শ্রমিকদের চা পাতার কাজ দেখতে পাওয়া যায় কাছ থেকে। অনেক জায়গায় পর্যটকদের জন্য চা-বাগান ভ্রমণের বিশেষ আয়োজন থাকে।

ডুয়ার্সে থাকার জন্য বিভিন্ন রিসোর্ট, হোটেল ও সরকারি বন বাংলো রয়েছে। খরচও তুলনামূলকভাবে কম। যারা কম বাজেটে ভ্রমণ করতে চান, তারা স্থানীয় লজ বা হোমস্টে বেছে নিতে পারেন। এতে খরচ কম হয় এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ মেলে।

খাবারের ক্ষেত্রে ডুয়ার্সে স্থানীয় বাঙালি খাবার ছাড়াও নেপালি ও পাহাড়ি খাবার পাওয়া যায়। ভ্রমণকারীরা চাইলে স্থানীয় বাজার থেকে তাজা ফলমূল ও খাবার কিনে নিতে পারেন।

ডুয়ার্স ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় হলো শীতকাল। এ সময় আবহাওয়া শীতল থাকে এবং বনভ্রমণ উপভোগ্য হয়। বর্ষাকালে বনভ্রমণ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও প্রকৃতির রূপ তখনো মনোমুগ্ধকর।

Logo