আমেরিকার রোড ট্রিপ সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অনন্য নাম হলো মোটেল ইন, যা ১৯২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সান লুইস অবিস্পোতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রায় এক শতাব্দী পর এই ঐতিহাসিক স্থাপনা আবার আলোচনায় এসেছে। কারণ এটি এখন বিক্রির জন্য বাজারে উঠেছে।
মোটেল ইনকে বিশ্বের প্রথম মোটেল বলা হয়। পাসাডেনার স্থপতি আর্থার এস. হাইনেম্যান “মোটেল” শব্দটি তৈরি করেছিলেন “মোটর” এবং “হোটেল” শব্দের সংমিশ্রণে। তার লক্ষ্য ছিল এমন একটি সাশ্রয়ী রাস্তার ধারের আবাসন তৈরি করা, যেখানে ভ্রমণকারীরা গাড়ি নিয়ে সরাসরি নিজেদের কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন এবং পরদিন আবার সহজে যাত্রা শুরু করতে পারবেন।
তখনকার দিনে ভ্রমণকারীদের জন্য সুবিধাজনক রাতযাপনের ব্যবস্থা ছিল সীমিত। কেউ হোটেলে থাকতেন, কেউ ব্যক্তিগত বাড়িতে কক্ষ ভাড়া নিতেন, আবার কেউ গাড়িতেই রাত কাটাতেন। হাইনেম্যানের উদ্ভাবিত মোটেল এই সমস্যার সমাধান এনে দেয়। মাত্র ১.২৫ ডলারে কক্ষ ভাড়া পাওয়া যেত, যেখানে রান্নাঘর, ব্যক্তিগত বাথরুম এবং গরম-ঠান্ডা পানির সুবিধা ছিল। কিছু কটেজে এমনকি সংযুক্ত গ্যারেজও ছিল।
স্থাপনাটি ক্যালিফোর্নিয়ার স্প্যানিশ মিশন ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়। মিশন সান্তা বারবারার আদলে নির্মিত তামার ছাদযুক্ত ঘণ্টাধ্বনি টাওয়ার ছিল এর অন্যতম আকর্ষণ।
দীর্ঘ দশক ধরে মোটেল ইন অসংখ্য ভ্রমণকারীর প্রিয় আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। হলিউড তারকা ক্লিন্ট ইস্টউড, লুসিল বল, বব হোপসহ অনেকেই এখানে অবস্থান করেছেন। এমনকি জো ডি ম্যাজিও ও মেরিলিন মনরো তাদের হানিমুনের সময় পাশের শহরে রাত কাটানোর পর ১৯৫৪ সালে এখানে দুপুরের খাবার খেয়েছিলেন।
তবে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে মোটেলটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০০০ সালে নতুন মালিকরা জায়গাটি কিনে বেশির ভাগ স্থাপনা ভেঙে ফেলেন। বর্তমানে কেবল মূল অফিস ও রেস্তোরাঁর সামনের অংশ টিকে আছে।
এখন ৪.২ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই ঐতিহাসিক সম্পত্তি নতুন মালিকের অপেক্ষায়। হেইস কমার্শিয়াল গ্রুপ এটি বাজারজাত করছে। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে ৮৩ কক্ষের হোটেল নির্মাণ করা সম্ভব। তবে মিশ্র ব্যবহার আবাসন বা বৃদ্ধনিবাসের মতো অন্যান্য উন্নয়ন সম্ভাবনাও রয়েছে। দাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন মালিক চাইলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে সংরক্ষণ করে আবারো আমেরিকান রোড ট্রিপ সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। প্রায় এক শতাব্দী আগে যে মোটেল ভ্রমণকারীদের জীবন বদলে দিয়েছিল, সেটি আবার নতুন রূপে ফিরে আসতে পারে।
logo-1-1740906910.png)