লিবিয়ায় অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ইইউর সামুদ্রিক উদ্ধার কেন্দ্র
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৫
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইতালি ও মাল্টার অর্থায়নে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজিতে একটি সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র (এমআরসিসি) স্থাপন করতে যাচ্ছে ইইউ। বৃহস্পতিবার লিবিয়ায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত নিকোলা অরলান্ডো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অরলান্ডো জানিয়েছেন, ইইউর সামরিক কার্যক্রম আইআরআইএনআইর আওতায় এ কেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। মাল্টার প্রতিনিধি ও লিবিয়ান আরব আর্মড ফোর্সেসের সেক্রেটারি জেনারেল খায়েরি তামিমির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “আমরা বেনগাজিতে একটি এমআরসিসি স্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি।”
নতুন কেন্দ্রটি মূলত ইউরোপমুখী অভিবাসী নৌকা আটকাতে এবং সাগরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে ভূমিকা রাখবে। উদ্ধারকৃতদের আবার লিবিয়ায় ফেরত নেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে কেন্দ্রটি চালু হবে। ইইউ জানিয়েছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে লিবিয়ার সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে মানবাধিকার রক্ষার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
আইআরআইএনআই মিশন শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল লিবিয়ার ওপর জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ করা। তবে অবৈধ তেল পাচার ও মানব পাচার রুট ভেঙে দেওয়াও এর কাজের অংশ। এ মিশনের আওতায় ইউরোপীয় সামরিক বাহিনী লিবিয়ার সমুদ্ররক্ষী ও নৌ-সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, লিবিয়ার সমুদ্ররক্ষীদের ক্ষমতা বাড়ালে আরো বেশি অভিবাসীকে বাধা দেওয়া হতে পারে। এতে অবৈধ পুশব্যাক ঘটতে পারে এবং অভিবাসীদের জোর করে লিবিয়ায় ফেরত নেওয়া হতে পারে। লিবিয়ায় ফেরত গেলে তারা নির্বিচারে আটক, শোষণ, নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপমুখী অভিবাসনের অন্যতম প্রধান রুট। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির রাজনৈতিক বিভাজনের সুযোগ নিয়ে মানব পাচারকারীরা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অবৈধভাবে ইউরোপে পাঠাচ্ছে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছান, আর এ যাত্রায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে নিয়মিত।
ইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিপলীকেন্দ্রিক ন্যাশনাল ইউনিটি সরকারকে সমর্থন করে। তবে এবার পূর্ব লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে, যদিও তাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। ইইউ কর্মকর্তারা মনে করেন, সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান কার্যকর করতে, মানব পাচার চক্র ভাঙতে এবং ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানি রোধে লিবিয়ার উভয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা জরুরি।
এই উদ্যোগকে কেউ কেউ ইতিবাচকভাবে দেখছেন, কারণ এতে ইউরোপমুখী অবৈধ অভিবাসন কমতে পারে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও অধিকার আরো বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।
logo-1-1740906910.png)