Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

জার্মানিতে চাকরি খোঁজার জন্য ‘অপরচুনিটি কার্ড’

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৩

জার্মানিতে চাকরি খোঁজার জন্য ‘অপরচুনিটি কার্ড’

জার্মানিতে চাকরি খুঁজতে আগ্রহী ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইএ) বাইরের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ব্যবস্থা চালু করেছে দেশটি। ‘অপরচুনিটি কার্ড’ নামের এই বিশেষ ভিসা চাকরি খোঁজার সুযোগ দেবে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য।

অপরচুনিটি কার্ড মূলত তাদের জন্য যারা এখনো জার্মানিতে চাকরির অফার পাননি, পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি পাননি বা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ে ভর্তি হননি। এ কার্ডের মাধ্যমে তারা জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খুঁজতে পারবেন।

কার্ড পেতে হলে বিদেশি ডিগ্রি বা পেশাগত যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। যদি সেই যোগ্যতা জার্মানিতে স্বীকৃত হয়, তবে সরাসরি আবেদন করা যাবে। অন্যথায় পয়েন্ট সিস্টেমে অন্তত ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। পয়েন্ট পাওয়া যায় শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, ভাষাজ্ঞান ও স্বীকৃত পেশায় দক্ষতার ভিত্তিতে।

স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও শিক্ষকতা; এসব খাতকে জার্মানি স্বল্পসংখ্যক কর্মী থাকা পেশা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব ক্ষেত্রে ডিগ্রি থাকলে অতিরিক্ত পয়েন্ট পাওয়া যায়।

জার্মান বা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। গোয়েথে ইনস্টিটিউট, আইইএলটিএস বা টোফেল পরীক্ষার সনদ গ্রহণযোগ্য। তবে সনদ এক বছরের বেশি পুরনো হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। যাদের ডিগ্রি জার্মানিতে স্বীকৃত, তাদের ভাষাজ্ঞানের আলাদা প্রমাণ লাগবে না।

আবেদনকারীদের অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে তারা জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের খরচ চালাতে পারবেন। মাসে অন্তত ১ হাজার ৯১ ইউরো আয় থাকলে তা যথেষ্ট। না হলে ব্লকড অ্যাকাউন্ট খুলে অর্থ জমা রাখতে হবে অথবা জার্মানিতে থাকা আত্মীয়-পরিজনের কাছ থেকে ডিক্লারেশন অব কমিটমেন্ট নিতে হবে।

অনেক দেশে অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদন করতে প্রয়োজন হবে—

- বৈধ পাসপোর্ট

- শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ

- স্বীকৃতির সনদ বা তুলনামূলক বিবৃতি

- ভাষাজ্ঞানের সনদ (যদি প্রয়োজন হয়)

- আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ

- স্বাস্থ্যবীমা

- ডিজিটাল আবেদন ফর্ম

প্রথমে কার্ড দেওয়া হবে ১২ মাসের জন্য। প্রয়োজনে তা বাড়ানো যাবে, তবে সর্বোচ্চ মেয়াদ এক বছর।

অপর্চুনিটি কার্ডে জার্মানিতে গিয়ে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করা যায়। তবে পূর্ণকালীন চাকরি পেলে নতুন রেসিডেন্স টাইটেল নিতে হবে। যেমন- ইইউ ব্লু কার্ড, দক্ষ কর্মীর ভিসা বা অভিজ্ঞ কর্মীর ভিসা। চাকরির অফার পাওয়ার পর নিয়োগকর্তার দেওয়া ডিক্লারেশন অব এমপ্লয়মেন্ট ফর্ম দিয়ে আবেদন করা যায়।

স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে আবেদন করলে জার্মানিতে প্রবেশ সম্ভব। তবে এক পক্ষের কার্ড থাকলে অন্যজন আলাদা রেসিডেন্স টাইটেল ছাড়া যোগ দিতে পারবেন না। সন্তানদের ক্ষেত্রে খরচ বহনের সক্ষমতা থাকলে তাদেরও সঙ্গে নেওয়া যায়।

জার্মান সরকারের এই উদ্যোগ বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা এখন সহজে জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খুঁজতে পারবেন।

Logo