স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউটায় কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। এ ঘটনায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন নীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
সেউটার জনসংখ্যা মাত্র ৮৪ হাজার। অথচ বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক মানুষ মরক্কো থেকে সাঁতরে, ভাসমান টিউব ব্যবহার করে কিংবা কাঁটাতার ভেঙে প্রবেশ করেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিবাসী-অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলো দ্রুতই অচল হয়ে পড়ে। অনেকেই আবার মরক্কোয় ফিরে যান। তবে এ সময় অন্তত ৭২ জন প্রাণ হারান, যা এ অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়।
আয়ারল্যান্ড, যা বর্তমানে ইইউর সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে, জানিয়েছে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হবে। এর আগে ২২টি সদস্য রাষ্ট্র যৌথভাবে একটি চিঠি দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানায়। তারা বলেন, “অবৈধ প্রবেশকে বৈধ থাকার সুযোগে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।”
ইতালি ইতোমধ্যেই স্পেনের সঙ্গে শেনজেন উন্মুক্ত সীমান্ত নীতি স্থগিত করেছে। ফ্রান্স সীমান্তে পুলিশ মোতায়েন পাঁচ গুণ বাড়িয়েছে। পর্তুগালও দক্ষিণ সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের শীর্ষ কনজারভেটিভ নেতা মানফ্রেড ওয়েবার বলেন, ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সকে আরো ক্ষমতা দিতে হবে।
স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট গত ৮ জুলাই রায় দেয়, সমুদ্রপথে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিক ফেরত পাঠানো যাবে না। অনেকের মতে, এই রায়কে পাচারকারী চক্র ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে অভিবাসীদের উসকে দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আদালতের রায় নয়, স্পেনের তুলনামূলক উন্মুক্ত অভিবাসন নীতিও ভূমিকা রেখেছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা বলেন, পাচারকারী নেটওয়ার্ক দুর্বল মানুষদের বিভ্রান্ত করেছে। তিনি দাবি করেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে সীমান্তে পুলিশ ও সেনা মোতায়েন থাকবে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, মরক্কো হয়তো কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির জন্য এই পরিস্থিতি ঘটতে দিয়েছে। দেশটি স্বাধীনতার পর থেকেই সেউটা ও মেলিলার ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। স্পেন অবশ্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। মরক্কোর মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনাকে “একটি দেশের ওপর আক্রমণ” বলে মন্তব্য করেছেন এবং নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় বিষয়টি ব্যবহার করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সেউটায় ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। ব্রিটেন ও ফ্রান্স স্পেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্পেন ও মরক্কোকে মানবাধিকার অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, “সমষ্টিগত বহিষ্কার কোনোভাবেই বৈধ নয়।”
logo-1-1740906910.png)