বেলারুশ থেকে লিথুয়ানিয়া সীমান্তে একটি সন্দেহজনক ভূগর্ভস্থ টানেলের সন্ধান পেয়েছে লিথুয়ানিয়ার কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, অনিয়মিত উপায়ে অভিবাসীদের সীমান্ত পারাপারের সুবিধা করে দিতেই টানেলটি খনন করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দেশটি।
লিথুয়ানিয়ার সংবাদমাধ্যম এলআরটির বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই মাটির নিচে অস্বাভাবিক কম্পন শনাক্ত করার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনী সন্দেহ করে যে বেলারুশের দিক থেকে সীমান্তের নিচে টানেল খোঁড়া হচ্ছে। এরপর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভারেনা জেলার সীমান্ত এলাকায় অনুসন্ধান শুরু হয়।
পোল্যান্ডের সীমান্ত কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বিশেষ টানেল শনাক্তকারী যন্ত্র ব্যবহার করে তদন্ত চালানো হয়। অনুসন্ধান শেষে কর্মকর্তারা জানান, বেলারুশের দিক থেকে একটি ভূগর্ভস্থ টানেল খোঁড়া হয়েছে, তবে সেটি এখনো লিথুয়ানিয়ার ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারেনি। টানেলটির ব্যাস প্রায় এক মিটার এবং এটি মাটির প্রায় দেড় মিটার নিচে অবস্থিত।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারা এই টানেল নির্মাণ করেছে এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ সীমান্ত পারাপারে যুক্ত চোরাচালান চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে লিথুয়ানিয়া ও প্রতিবেশী পোল্যান্ডে একই ধরনের টানেলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তখন এসব টানেল ব্যবহার করে মানুষ, তামাক ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য সীমান্ত পারাপারের অভিযোগ উঠেছিল।
প্রতিবেশী লাটভিয়াও জানিয়েছে, বেলারুশ থেকে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করা অভিবাসীদের ঠেকাতে গত বুধবার সেনারা টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে এবং সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রিস কুলবার্গস বলেছেন, সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করা অভিবাসীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশটির মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
লাটভিয়ার সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, পাঁচজন বা তার বেশি অভিবাসী সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় সেনাদের দিকে গাছের গুঁড়ি ছুড়ে মারেন এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়। তাতেও তারা নির্দেশ না মানায় আকাশের দিকে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়। পরে অভিবাসীরা বেলারুশের ভূখণ্ডে ফিরে যান।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ লাটভিয়া, পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়া দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, বেলারুশ এবং তাদের মিত্র রাশিয়া এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসীদের এনে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পাঠাচ্ছে। তাদের দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের জবাবে অভিবাসীদের ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে মিনস্ক ও মস্কো বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পোল্যান্ড জানিয়েছিল, বেলারুশ সীমান্তসংলগ্ন একটি বনাঞ্চলে লুকানো টানেল ব্যবহার করে ১৮০ জনের বেশি অভিবাসী দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন। একই ধরনের অভিযোগ লাটভিয়ার পক্ষ থেকেও এসেছে।
logo-1-1740906910.png)