Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

গুজবের কারণেই মরক্কো থেকে স্পেনে জনস্রোত

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৭

গুজবের কারণেই মরক্কো থেকে স্পেনে জনস্রোত

স্পেনের ছোট উপকূলীয় শহর সেউটায় হঠাৎ করে মরক্কো থেকে জনস্রোতের মতো মানুষের ঢল নেমেছে। বৃহস্পতিবার রাতভর সীমান্তে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ হারালে হাজার হাজার মানুষ সাঁতরে বা হেঁটে স্পেনে প্রবেশ করেন। শুক্রবার সকালে পরিস্থিতি দেখতে সেখানে যান স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

এই অননুমোদিত প্রবেশে অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ মারা গেছেন পানিতে ডুবে, আবার কেউ পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সীমান্তের ঢেউ প্রতিরোধক প্রাচীর পার হওয়ার সময়। সেউটার প্রশাসনের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জানিয়েছেন, তার ধারণা অনুযায়ী এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে প্রবেশ করেছে। অথচ শহরটির মোট জনসংখ্যা মাত্র ৮৫ হাজার। তিনি বলেন, “এত বড় চাপ সামলানো আমাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব”।

স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতা রাশিদ সবিহি জানান, এখনো মানুষ প্রবেশ করছে। অতিরিক্ত বাহিনী কেবল আহতদের সেবা ও মানবিক কার্যক্রমে সহায়তা করছে। তবে বার্তা সংস্থা এপি ও ইএফই জানিয়েছে, অভিবাসী-অভ্যর্থনা কেন্দ্রের সীমিত সক্ষমতার কারণে কিছু মানুষকে মরক্কোয় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা সেউটায় যান। সংবাদ সম্মেলনে সানচেজ বলেন, এই গণ-অনুপ্রবেশ ‘‘স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন”। তিনি মানব পাচারকারীদের ছড়ানো গুজবকে দায়ী করেন।

সানচেজ ব্যাখ্যা করেন, স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক রায়ে জানিয়েছিল, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানোর নিয়ম সমুদ্রপথে আগতদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কিন্তু পাচারকারীরা সেই রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে প্রচার চালায় যে, সীমান্ত সাঁতরে প্রবেশকারীদেরও ফেরত পাঠানো হবে না। ফলে গুজব দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং হঠাৎ করে সীমান্তে মানুষের ঢল নামে।

মরক্কোর উত্তরাঞ্চলীয় শহর ফিনিদিকের কাছে কয়েক হাজার মানুষ স্পেনে প্রবেশের জন্য ভিড় করেন। তাদের ঠেকাতে মরক্কো সরকার নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, মরক্কোর কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে যে পাচারকারী মাফিয়া চক্র আদালতের রায়কে নিজেদের সুবিধামতো দাঁড় করিয়ে অভিবাসীদের বিভ্রান্ত করেছে।

উল্লেখ্য, উত্তর আফ্রিকার উপকূলে মরক্কোর সীমান্তে স্পেনের সেউটা ও মেলিলা নামের দুটি ছিটমহল রয়েছে। এর আগে ২০২১ সালেও সেউটায় একই ধরনের সংকট দেখা দিয়েছিল। তখন কয়েক দিনের ব্যবধানে আট হাজারেরও বেশি মানুষ অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন।

Logo