জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তরের (ইউএনওডিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে মানব পাচারের শিকারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারী ও শিশুরা। বিশেষ করে যৌন শোষণই পাচারের প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে উঠে এসেছে।
৩০ জুলাই পালিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবস। এর আগে প্রকাশিত ইউএনওডিসির গ্লোবাল রিপোর্ট অন ট্র্যাফিকিং ইন পারসনস ২০২৪ এ দেখা গেছে, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মানব পাচারের ঘটনা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র সংঘাত, জলবায়ু বিপর্যয় ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি মানুষের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ২ লাখ ২ হাজারের বেশি পাচারের শিকারকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শিশু ছিল ৩৮ শতাংশ; যার মধ্যে ২২ শতাংশ মেয়ে এবং ১৬ শতাংশ ছেলে। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৩৯ শতাংশ নারী এবং ২৩ শতাংশ পুরুষ ছিলেন।
যৌন শোষণের ক্ষেত্রে নারীরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। এ ধরনের পাচারে ৬৪ শতাংশ নারী এবং ২৮ শতাংশ মেয়ে শিশু শিকার হয়েছেন। পুরুষ ও ছেলে শিশু মিলিয়ে এ হার মাত্র ৬ শতাংশ। অন্যদিকে সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে বেশি পাচার হয়েছে জোরপূর্বক শ্রমে। এতে ৪২ শতাংশ ভুক্তভোগী যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ ছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, ২৩ শতাংশ নারী, ২০ শতাংশ ছেলে এবং ১০ শতাংশ মেয়ে শিশু।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ১৬২টি দেশ থেকে মানুষ পাচার হয়ে ১২৮টি দেশে গেছেন। শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের মধ্যে আফ্রিকান দেশগুলোর নাগরিকই ছিল সবচেয়ে বেশি, ৩১ শতাংশ।
মানব পাচারের পেছনে সংগঠিত অপরাধচক্রই প্রধান চালিকা শক্তি। ৯৪২টি আদালতের মামলার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৭৪ শতাংশ পাচারকারী কোনো না কোনো অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাকিরা স্বাধীনভাবে কাজ করেছেন। পাচারকারীদের মধ্যে ৭০ শতাংশ পুরুষ এবং ২৮ শতাংশ নারী।
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মানব পাচার এখনো আধুনিক দাসত্বের ভয়াবহ রূপে বিদ্যমান। নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, সংঘাত ও জলবায়ু বিপর্যয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষদের সহায়তা করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
logo-1-1740906910.png)