আধুনিক যুগে মানব পাচার: মানুষকে পণ্য হিসেবে দেখা যায় না
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯
বিশ্বে দাসপ্রথা আইনগতভাবে বিলুপ্ত হলেও আধুনিক যুগে প্রায় ৫ কোটি মানুষ এখনো মানব পাচার ও শোষণের শিকার হয়ে দাসত্বে আবদ্ধ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, মানব পাচার ও শোষণ এখন বছরে প্রায় ২৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধ অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস (৩০ জুলাই) সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তালিথা কুম তাদের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, মানব পাচার এখন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন রূপ নিচ্ছে। অনলাইন প্রতারণা, ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন ও সাইবার স্ক্যাম হয়ে উঠেছে ২১ শতকের নতুন ফাঁদ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে তালিথা কুম বিশ্বজুড়ে ১২ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। তবে এ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইউরোপ ও এশিয়ায় মানব পাচারের সংখ্যা বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক সমন্বয়ক সিস্টার অ্যাবি অ্যাভেলিনো বলেন, “মানব পাচারের সমস্যা ক্রমেই জটিল হচ্ছে। প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবন সহজ করছে, তেমনি পাচারকারীরা এটিকে ব্যবহার করছে প্রতারণা ও শোষণের নতুন অস্ত্র হিসেবে।”
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল ও মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে পাচারকারীরা মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে, পরে তাদের জোর করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে।
তালিথা কুমের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানব পাচার এখন আর শুধু সীমান্ত পেরোনো বা শারীরিকভাবে মানুষকে আটকে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষকে মানসিকভাবে বন্দি করা হচ্ছে। এ কারণে এ বছরের মানব পাচারবিরোধী দিবসের প্রতিপাদ্য রাখা হয়েছে “Trapped Behind the Scam” অর্থাৎ প্রতারণার ফাঁদে বন্দি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানব পাচার প্রতিরোধে শুধু আইন নয়, প্রযুক্তি-সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। মানুষকে অনলাইন প্রতারণা ও ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন থেকে সতর্ক করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংগঠিত অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
logo-1-1740906910.png)