Logo
×

Follow Us

এশিয়া

বাংলাদেশি রোগীদের আস্থায় ভারতের এআইজি হাসপাতাল

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪

বাংলাদেশি রোগীদের আস্থায় ভারতের এআইজি হাসপাতাল

ভারতের হায়দ্রাবাদে অবস্থিত এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হসপিটালস (এআইজি হাসপাতাল) এখন বাংলাদেশি রোগীদের কাছে একটি পরিচিত নাম। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বা পেট ও পরিপাকতন্ত্রের চিকিৎসায় বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে শুধু গ্যাস্ট্রো নয়, এটি একটি মাল্টি-স্পেশালিটি সুপারহসপিটাল হিসেবে হৃদরোগ, কিডনি, ক্যানসার, ফুসফুস ও অর্থোপেডিকস চিকিৎসায়ও সমানভাবে সমাদৃত।

ডা. ডি. নাগেশ্বর রেড্ডির নেতৃত্বে পরিচালিত এ হাসপাতালটি এশিয়ার অন্যতম সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে স্বীকৃত। এখানে লিভার সায়েন্স, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সার্জারি ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টের মতো জটিল চিকিৎসা হয় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। ন্যূনতম কাটাছেঁড়ায় জটিল সার্জারি করার সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য আলাদা ডেস্ক থাকায় বিদেশি রোগীরা সহজেই সেবা পান।

বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য যেতে হলে প্রথমে হাসপাতালের ইনভাইটেশন লেটার বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্মেশন সংগ্রহ করতে হয়। এরপর অনলাইনে আইভ্যাক পোর্টালের মাধ্যমে মেডিকেল ভিসার আবেদন করা যায়। রোগীর সঙ্গে একজন বা দুজন সহযোগীও মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ভিসা নিতে পারেন। ঢাকা থেকে সরাসরি ইন্ডিগো ফ্লাইটে হায়দ্রাবাদ পৌঁছানো যায়। রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার।

থাকার জন্য হাসপাতালের আশপাশে গাছিবাউলি এলাকায় প্রচুর বাজেট হোটেল, গেস্ট হাউস ও সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার রুপির মধ্যে ভালো মানের রুম পাওয়া যায়। খাবারের ক্ষেত্রে হাসপাতালের আশপাশে বাংলাদেশি স্বাদের খাবার পাওয়া যায় এমন রেস্তোরাঁও আছে। অনেকেই অ্যাপার্টমেন্টে থেকে নিজের মতো রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

চিকিৎসার খরচ রোগের ধরন ও কেবিন নির্বাচনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত প্রথমবার ডাক্তার দেখানোর ফি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ রুপি। টেস্ট ও ডায়াগনস্টিক খরচ বাংলাদেশ থেকে কিছুটা বেশি হলেও মানের দিক থেকে নিখুঁত। বড় অপারেশনের ক্ষেত্রে লিভার ট্রান্সপ্লান্টে খরচ হয় ১৫ থেকে ২৫ লাখ রুপি, কিডনি ট্রান্সপ্লান্টে ১২ থেকে ২০ লাখ রুপি। গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বা অন্যান্য সার্জারির খরচ রোগের জটিলতার ওপর নির্ভর করে।

চিকিৎসার আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করা জরুরি। পুরোনো প্রেসক্রিপশন, ল্যাব রিপোর্ট ও ইমেজিং ফাইল সঙ্গে রাখা উচিত। খরচ মেটাতে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা ফরেক্স কার্ড ব্যবহার করা যায়, পাশাপাশি কিছু নগদ রুপি রাখা ভালো। হাসপাতালের আন্তর্জাতিক পেশেন্ট ডেস্কে বাংলা ভাষা জানা সহায়তাকারীও পাওয়া যায়।

বাংলাদেশি রোগীদের জন্য এআইজি হাসপাতাল এখন শুধু চিকিৎসার জায়গা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। উন্নত প্রযুক্তি, অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং সহজ যাতায়াত সুবিধার কারণে এটি হয়ে উঠেছে বিশ্বমানের চিকিৎসার অন্যতম গন্তব্য।

Logo